ভোটের প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষাণের সমর্থক রেজাউল ইসলাম ওরফে রেঞ্জা (৬০) নামে এক কর্মীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত আটটার দিকে শহরের বটতলী মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। সেই সঙ্গে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনেও আরেক সমর্থক ছুরিকাহত হয়েছেন।
নওগাঁ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ‘নৌকা’ প্রার্থী নিজাম উদ্দিন জলিল জন। আর নওগাঁ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষাণ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ট্রাক’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আহত রেজাউল ইসলাম ওরফে রেঞ্জা নওগাঁ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পার-নওগাঁ এলাকার বাসিন্দা এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক।
‘আমাদের কোনো নেতাকর্মী কারও ওপর হামলা করেনি। তাদের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু সেটা তদন্তসাপেক্ষে বলা যাবে। এ ধরনের হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। পুলিশ নিশ্চয়ই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে’
- মাহবুবুল হক কমল
সভাপতি, নওগাঁ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও
আওয়ামী লীগ প্রার্থী নিজাম উদ্দিনের সমর্থক
স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার রাতে দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষাণের ‘ট্রাক’ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন রেঞ্জা। পথে রাত আটটার দিকে বটতলী মোড় এলাকায় পৌঁছালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হামলা করা হয়। এ সময় স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।
নওগাঁ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফজলুল হক নয়ন বলেন, ‘রাত সাড়ে আটটার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় রেঞ্জা নামের এক ব্যক্তিকে কয়েকজন যুবক হাসপাতালে এনেছিলেন। তার ডান পায়ে হাটুর একটু ওপরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। এছাড়া ডান হাতের কব্জির নিচে ও মাঝখানের আঙুলে কোপ দেওয়া হয়েছে। এতে তার হাতের রগ কিছুটা কেটে গেছে। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছোটখাটো আঘাতের চিহ্ন আছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।’
অভিযোগ করে ‘ট্রাক’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নওগাঁ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষাণ বলেন, ‘নৌকা’ প্রার্থীর সমর্থকরা রেজাউল ইসলাম রেঞ্জার ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে। কয়েক দিন আগে নৌকা প্রার্থীর অনুসারী এক নেতা আমার কর্মী চন্ডিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেনকে ‘ট্রাক’ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এছাড়া নৌকা প্রার্থীর সমর্থক নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত আমার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে।’
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী নিজাম উদ্দিনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত নওগাঁ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুল হক কমল। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো নেতাকর্মী কারও ওপর হামলা করেনি। তাদের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু সেটা তদন্তসাপেক্ষে বলা যাবে। এ ধরনের হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের পুলিশ নিশ্চয়ই আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।’
নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হক বলেন, ‘হামলার ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
আরও এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ছুরিকাহত
একই দিন সকালে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য চৌধুরী গোলাম মোস্তফা বাদলের (৫৮) ছুরিকাহতের ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যেতে থাকা শামীম হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলেই আটক করে ও পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
