ঢাকা-১৮

স্বতন্ত্ররাই উত্তাপ ছড়াচ্ছেন ভোটের মাঠে

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৪, ১৯:০০

এবারের সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ও ১৪-দলীয় জোটকে ৩২টি আসন ছেড়েছে আওয়ামী লীগ। এ আসনগুলোর মধ্যে রাজধানী ঢাকার আসন আছে একটি। এটি হচ্ছে দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, তুরাগ, উত্তরা এবং বিমানবন্দর থানা ও ভাটারা থানার একাংশ উত্তরখান থানা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৮। সঙ্গত কারণেই এ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। তাই এবার আসনটি শেষ পর্যন্ত কার দখলে যাবে, সেটা নিয়েই চলছে শেষ মুহূর্তের আলোচনা-সমালোচনা।

এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ঢাকার এ আসন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এক রকম অবহেলিত এখানকার মানুষ। বছরের পর বছর পার হলেও হয়নি রাস্তা-ঘাট কিংবা জীবনমানের উন্নয়ন। নেই কোন সরকারি হাসপাতাল কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব মাথায় রেখেই এবার ভোটারদের কাছে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে এসব প্রার্থীদের প্রচারে বেশি চোখে পড়ছে ভোটার নন বা কম বয়সী কিশোরদের। তাদের নিয়েই দল ভারী করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

আগে ঢাকা-১৮ আসনের কাণ্ডারি ছিলেন প্রয়াত সাবেক স্বরাষ্ট্র ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সাহারা খাতুন। ২০২০ সালের ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের এ শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। এরপর ১২ নভেম্বর উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিব হাসান। 

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, এবারের নির্বাচনেও নৌকার টিকিট পেয়েছিলেন হাবিব হাসান। জোটের জোটের সঙ্গে সমঝোতায় নির্বাচন থেকে সরে আসতে হয় তাকে। 

এবারের নির্বাচনে এ আসনে লাঙ্গল মার্কা প্রতীক নিয়ে প্রার্থিতা করছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সহধর্মিণী শেরীফা কাদের। আরও আছেন খসরু চৌধুরী (কেটলি), এস এম তোফাজ্জল হোসেন (ট্রাক), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির দয়াল কুমার বড়ুয়া (হাতঘড়ি), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি-বিএনএফের এস এম আবুল কালাম আজাদ (টেলিভিশন), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের ফাহমিদা হক সুকন্যা (ছড়ি), তৃণমূল বিএনপির মোহাম্মদ মফিজুর রহমান (সোনালী আঁশ), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির জাকির হোসেন ভূঁইয়া (আম), নাজিম উদ্দিন (মোড়া) ও বশির উদ্দিন (ঈগল)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নৌকার প্রার্থী সরে যাওয়ায় অনেকটা হতাশা হয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে তারা সমর্থন দিচ্ছেন দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। ফলে তাদের নিয়ে হলেও প্রচার-প্রচারণায় এখন বেশ উত্তাল ভোটের মাঠ। এ আসনে এখন আলোচনায় আছেন কেটলি মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী খসরু চৌধুরী ও ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম তোফাজ্জল হোসেন। নেতাকর্মীরা বলছেন, এ দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে চলছে কঠিন লড়াই। তাদের মধ্যে যেই জয়ী হন না কেন, ভোটে খুব বড় পার্থক্য হবে না। 

খসরু চৌধুরী বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে আমি সর্বশক্তি দিয়ে সারাজীবন মানুষের সেবা করতে চাই। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে আমার জীবন সার্থক হবে। ঢাকা-১৮ হবে মাদকমুক্ত। সন্ত্রাসের ভয় ছাড়াই মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করবে। নির্বাচিত হলে আমি ঢাকা-১৮কে সব আসনের মধ্যে সেরা করার প্রয়াস নিয়ে এগিয়ে যাব।

আর তোফাজ্জল হোসেন জানান, আমি ঢাকা-১৮ আসনের স্থানীয় প্রার্থী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ছিলাম। সেদিক থেকে স্থানীয় ভোটগুলো প্রত্যাশা করছি। বিশেষ করে, দক্ষিণখান, উত্তরখান, তুরাগ ও খিলক্ষেতের স্থানীয় ভোটারদের টার্গেট করে এগিয়ে যাচ্ছি।

অন্যদিকে মহাজোটের কাউকে পাশে না পেয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে নীরবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন শেরীফা কাদের। পিছিয়ে নেই হাতঘড়ি মার্কার প্রার্থী দয়াল কুমার বড়ুয়াও। তিনিও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। তারা বাদে অন্য প্রার্থীদের এখনও তেমন চোখে পড়েনি। 

জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী শেরীফা কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের অনেকেই আমার জন্য প্রকাশ্য ও গোপনে কাজ করছে। লাঙ্গলকে ভোট দিলে যে শুধুমাত্র জাতীয় পার্টিকে দিলেন, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।

ইত্তেফাক/এএএম