বার্ন ইনস্টিটিউটে অব্যবস্থাপনার কারণে চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত

কেনাকাটা, নিয়োগ ও সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:০০

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে চিকিৎসায়। বর্তমানে কেনাকাটা, নিয়োগ ও সরবরাহে দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব নিয়ন্ত্রণ করছে সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট। অথচ এক বছর আগেও এই হাসপাতালের সুনাম ছিল দেশে-বিদেশে। তবে সব সুনাম যেন ক্ষুণ্ণ হতে চলেছে দলবাজ হিসেবে পরিচিত ঐ সিন্ডিকেটের কারণে। এতে ক্ষুব্ধ হাসপাতালটির ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তারা দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, অব্যবস্থাপনা দূর করে এশিয়া মহাদেশের জন্য বৃহত এই হাসপাতালটির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য অভিজ্ঞ ম্যানেজমেন্ট থাকতে হবে। 

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছিল। জন্মের পর থেকে জোড়া লাগানো তোফা-তহুরাকে আলাদা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল বার্ন ইনস্টিটিউট। যেটা সিংগাপুর পারেনি। সেই স্বনামধন্য হাসপাতালে বর্তমানে যে অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে তাতে হতবাক অনেকে। হাসপাতালে তিনটি ক্যান্টিন রয়েছে, সেখানেও অব্যবস্থাপনা। হাসপাতালের মেডিসিন স্টোরেজে কোটি কোটি টাকার ওষুধপত্র কিনে রাখা হয়। কিন্তু সেসব ওষুধ সেখানে রাখা হয় কিনা তা দেখভাল করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্টোরেজের বিষয়টি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করে অনুসন্ধান করলে সবকিছু বেরিয়ে আসবে। সাম্প্রতিকালে একজন ফার্মাসিস্ট বকশিবাজারে ট্রাক ভর্তি সরকারি ওষুধসহ ধরা পড়ে। ঐ ফার্মাসিস্ট হলেন ঐ সিন্ডিকেটের সমন্বয়কারী। ১৫ কোটি টাকার সার্জিক্যাল জিনিসপত্র কাগজপত্রে ছিল, কিন্তু বাস্তবে ছিল না—এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। যে কোম্পানির মাধ্যমে এই হাসপাতালে জনবল নিয়োগ করা হয়, সেই কোম্পানির নিয়ন্ত্রকও ঐ সিন্ডিকেট। যা তদন্ত করলেই প্রমাণ মিলবে। 

ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধি সরেজমিনে হাসপাতালটিতে গিয়ে চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখতে পান। সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার-নার্স ও কর্মচারীরা। অনেকে সিন্ডিকেটের সদস্যদের দ্বারা অপমান ও অপদস্ত হচ্ছেন। রোগীরা বলেন, বর্তমানে ডাক্তাররা কেমন যেন হয়ে গেছে। আগের মতো করে আর রোগীদের দেখভাল করেন না। 

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বর্তমানে কোনো নিয়ম-কানুন মানা হচ্ছে না। কাগজপত্রে সব কিছু ঠিক আছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো মিল নেই। হিসাব বিভাগের একজন কর্মকর্তার ঢাকা শহরে তিনটি বাড়ি রয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিন বছর ধরে যুগ্ম পরিচালকের পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ডা. রায়হানা আউয়াল। তিনি সৎ, মেধাবী ও কর্মঠ। কিন্তু ঐ সিন্ডিকেটের কাছে তিনি পেরে উঠতে পারছেন না। 

এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. রায়হানা আউয়াল বলেন, আমি কাগজপত্র দেখে সব কিছু অনুমোদন দেই। কোনো অনিয়ম করতে দেওয়া হয় না। 

চিকিৎসকরা বলেন, দুই বছর পূর্বেও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এমন অনিয়ম ছিল না। যা এখন অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে। ঐ সময় সব কিছু শৃঙ্খলার মধ্যে ছিল। কিন্তু এখন সিন্ডিকেটের খবরদারি বেড়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম