আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর রাত-দিন প্রচারণায় মুখরিত। দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচনী মাঠে চলছে গরম হাওয়া। চূড়ান্ত লড়াইয়ে নিজেদের স্থান দখলে সরব প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটকে সামনে রেখে এলাকার প্রধান সড়ক ও মেঠোপথ প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে। মাইকিং ও গণসংযোগে মুখরিত পুরো এলাকা।
এ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন মোট ৭ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বনফুল-কিষোয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ মোতালেব, কল্যাণ পার্টির হাত ঘড়ি প্রতীকের অধ্যক্ষ মাওলানা সোলাইমান কাসেমি, জাতীয় পার্টির (জাপা) লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. ছালেম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী আলী হোসেন, ইসলামী ঐক্যের প্রার্থী মাওলানা মো. হারুন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন।
৭ প্রার্থীর মধ্যে ২ জন হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন- দুবারের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী (নৌকা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ মোতালেব (ঈগল)। তারা দুজনে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ, পথসভায় সরব রয়েছেন। বাকি ৫ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় দেখা মিলছে খুবই কম।
এদিকে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার সংসদ সদস্য পদে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে লড়াই দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসবেন, তা বলা যাচ্ছে না এখনই।এই দুই প্রার্থী ভবিষ্যতে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা উপস্থাপন করে ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত। সাতকানিয়া আংশিক ও লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন টানা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রার্থী বর্তমান সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন নদভী ও নাগরিক কমিটির ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান এমএ মোতালেব।
এই হেভিওয়েট দুই প্রার্থী দিন-রাত পথসভা, উঠান বৈঠক ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
ভোটারদের কাছে বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে ড. নদভী বলেন, গত ১০ বছর আপনাদের পাশে ছিলাম। সন্ত্রাসের জনপদ খ্যাত সাতকানিয়া- লোহাগাড়াকে শান্তির জনপদে ফিরিয়ে এনেছি। স্বাধীনতার পর অন্যান্য এমপির চেয়ে এলাকায় বেশি উন্নয়ন করেছি। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করলে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা সন্ত্রাস মুক্ত আধুনিক উপজেলা উপহার দেব, ইনশাল্লাহ।
অপরদিকে নাগরিক কমিটির ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতালেব সাতকানিয়া-লোহাগাড়া উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন মন্তব্য করে বলেন, আমাদের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা শতভাগ নিশ্চিত জনগণ এবার ঈগল মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয় করবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচিত হলে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ও মাদকের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবো। দুই উপজেলায় ভারী ও মাঝারি আধুনিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। উন্নত ও সমৃদ্ধ এলাকা উপহার দিতে আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।
