আজও অনুশীলন, মাঠ সংকটে মোহামেডান

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪, ১৪:৫৭

শুক্রবার ছুটির দিন রাস্তা ছিল ফাঁকা। দুপুর গড়াতেই মিরপুর থেকে বাইক চালিয়ে মোহামেডান হেড কোচ আলফাজ আহমেদ ক্লাবে ঢুকেই দেখলেন সেটপিস অনুশীলন করছিলেন উজবেক ফুটবলার মোজাফফরভ। তার সাথে দুকথা বলেই আলফাজ চলে গেলেন রুমে। এরই মধ্যে দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রা অনুশীলনে নামলেন। ছাইদ হাসান কানন, আব্দুল কাউয়ুম সেন্টু ফুটবলারদের নিয়ে ওয়ার্মআপ করাতে ব্যস্ত। আর কোচ আলফাজ এবং দলের ফুটবল ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব আলোচনা করছিলেন আজকে কোথায় অনুশীলন করাবেন। মাঠ সংকট। মাঠ পাওয়া যায় না। 

ম্যানেজার নকীব জানাচ্ছিলেন ধুপখোলা মাঠ, আউটার স্টেডিয়াম, ১০০ ফিটের ওখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠসহ যখন যেখানে মাঠ পাওয়া যায় সেখানে অনুশীলন করতে হয়। নকীব বললেন, ‘আমাদের ক্লাব সভাপতির পরিচয়ে আমার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে অনুশীলন করতে পারি। সেখানে না গেলে অন্য কোথাও যেতে হয়।’

খেলা হয় বিকালে। সময়ের সঙ্গে মিল রেখে অনুশীলন করা কঠিন হয়ে যায়। মূল অনুশীলনটা করতে হয় সকালের সেশনে। যেটা কি না পুরোপুরি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। দিনের পর দিন এভাবে চলতে হচ্ছে। ঢাকার বাইরে কোনো ম্যাচ খেলতে হলে মোহামেডানে আগের দিন যেতে হয়। তখন বিকালে অনুশীলন করার ব্যবস্থা হয়। সেখানেও খুব একটা ভালো মাঠ পাওয়া যায় না। আর যদি দিনে গিয়ে ম্যাচ খেলে আবার সেদিনই ঢাকায় ফিরতে হয় তাহলে আগের দিনের বিকালের অনুশীলনটা ভালো হয় না।

মোহামেডানের ফুটবল মাঠ নেই। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। যুগের পর যুগ কষ্ট করে চলতে হচ্ছে কিন্তু এখন আগের মতো খোলামেলা জায়গা নেই, সহজেই শহরের একপ্রান্ত  থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত যাওয়া-আসাও করা যায় না। আশির দশকে মোহামেডানের নিয়মিত অনুশীলন হতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে। কোহিনূর, বড় বাদল, ছোট বাদল, সালাম মুর্শেদী, মোসাব্বের, স্বপন দাস, আবুল, বেলাল, মহসীন, রনজিত, কাজী কামাল, সাব্বির, কায়সার হামিদদের অনুশীলন দেখতেও হাজার দুই দর্শক ভীড় করত। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরাও অনুশীলন মাঠে উঁকি দিতেন। এমনকি ’৯৩ মৌসুমে আবাহনী থেকে শেখ মো. আসলাম মোহামেডানে যোগ দিলেন, তখনও ঢাবির গ্যালারিতে বসে অনুশীলন দেখার উত্সুক লোকের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা ছিল না। ঘুমনি, ঝালমুড়ি, আচার, পান-সিগারেট ফেরি করে বিক্রেতার সংখ্যা ছিল ১০-১৫ জন। ঢাবির এই মাঠ ছাড়ার পর মোহামেডানের অনুশীলন মাঠের সংকট আরও বেড়ে যায়।   

মোহামেডান ফুটবল দলের অনুশীলন জন্য স্থায়ী মাঠের ব্যবস্থা আজও হয়নি। ৮৭ বছরের  মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। চালকের আসনে অনেক পালাবদল হয়েছে। ফুটবল দলের জন্য আজও একটা স্থায়ী মাঠের বন্দোবস্ত হয়নি। লোকমান হোসেন থাকার সময় সাভারে একটা বড় জমির ব্যবস্থা করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল সেখানে ফুটবল ক্যাম্প হবে, অনুশীলন মাঠ হবে। আরও বেশকিছু পরিকল্পনা ছিল। কঠিন পদক্ষেপ ছিল সেটি। মধ্যে ছন্দপতন হওয়ায় সেখানকার পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখেনি।

ক্লাব পরিচালনায় পালাবদলের হাওয়ায় অনেক ধরনের সংকট সমাধানের আওয়াজ উঠলেও  অন্যতম সমস্যা অনুশীলন মাঠ নেই। অনুশীলন মাঠ নিয়ে প্রতিদিনই একটা বাড়তি টেনশন থাকে। ম্যানেজার কোচের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা একটা স্থায়ী মাঠ থাকলে অনুশীলন পরিকল্পনায় ছন্দপতন হয় না। এখন যেখানে অনুশীলন করছে মোহামেডান, সেটি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তিন বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে অনুশীলন করছে মোহামেডান আর এরজন্য মাঠে ভাড়াও দিতে হয় না। ক্লাবের সভাপতি জেনারেল আব্দুল মুবীনের (অব.) উদ্যোগে এই সুবিধাটি পাচ্ছে মোহামেডান। 

ম্যানেজার নকীব বললেন, ‘ওখানে আমরা তিন বছর ধরে অনুশীলন করছি এবং সেটা সকালে করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই অনুশীলন শেষ করে বেরিয়ে আসতে হয়। বিকালে অনুশীলন করা যায় না। খেলা হয় বিকালে আর মূল অনুশীলন করতে হয় সকালে।  যেটা বেমানান। ম্যাচের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে অনুশীলন করতে পারছি না আমরা। বিকালের অনুশীলন করার জন্য বাধ্য হয়ে অন্য কোথাও মাঠ খুঁজতে হয়। না পেলে ক্লাবের এই মাঠেই নামতে হয়।’ 

সরকারী ব্যাংকের মাঠে ব্রাদার্স ইউনিয়ন অনুশীলন করলেও আবাহনী, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, ফর্টিস এফসি, পুলিশ এএফসি, রহমতগঞ্জ, বসুন্ধরা কিংসের নিজেদের মাঠ আছে। অনুশীলনে সমস্যা নেই। অথচ সবচেয়ে বড় সংগঠন মোহামেডান আজও নিজের মাঠের ব্যবস্থা হয়নি। কবে মাঠের ব্যবস্থা হবে, কবে ফুটবল অনুশীলন মাঠ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না সেটা মোহামেডান নীতিনির্ধারকরা ভালো বলতে পারবেন। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ