ক্রিকেটের টেস্ট ফরম্যাটকে বলা হয় আভিজাত্যের ফরম্যাট। এক সময় ক্রিকেটাররা এই ফরম্যাটে দলের হয়ে সুযোগ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করত। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ চিত্র যেন বদলে গিয়েছে। এখন ক্রিকেটাররা লাল বলের ফরম্যাটের থেকে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের দিকে বেশি মনোযোগী আর এই কারণে তারা এই ফরম্যাট থেকে অবসর অবদি নিয়ে নেয়।
শুধু তাই নয়, গোটা বছর জুড়েই চলতে থাকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের খেলা। তবে সেই তুলনায় টেস্ট ফরম্যাটের ম্যাচ তেমন একটা দেখা যায় না। আর তাই এই বিষয়ে সম্প্রতি খানিকটা হতাশা প্রকাশ করে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স বর্তমান সময়ে টেস্ট ক্রিকেটের অধঃপতনের জন্য দায়ী করেছেন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে।
কয়েক দিন আগে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র হয়েছে ১-১ ব্যবধানে। সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে জিতে এগিয়ে গিয়েছিল প্রোটিয়ারা। যদিও পরের টেস্ট মাত্র দুই দিনে জিতে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় রোহিত শর্মার দল। তবে এই সিরিজটি মাত্র দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলায় বিরক্ত ভিলিয়ার্স। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের একটি ভিডিওতে তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মাত্র দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ কেন খেলা হলো, এটা আমি জানি না। কেন তৃতীয় একটি টেস্ট খেলা হলো না—তার কোন উত্তর নেই। টেস্ট ক্রিকেটের এই অধঃপতনের কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাপী টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে দায়ী করা যেতেই পারে, কিন্তু সত্যিই আমি জানি না, আসলেই দায়ী কেন বিষয়টি। আপনি যদি সব দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখতে চান এবং কোনটি বিশ্বের সেরা টেস্ট দল তা যাচাই করতে চান, তবে এই ধারাবাহিকতায় কিছু পরিবর্তন করতে হবে।’
কয়েক দিন পরেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আবারও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে প্রোটিয়ারা। যদিও এই সিরিজের জন্য বেশ কিছু নতুন মুখ নিয়ে দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা। কারণ এই সময়ে চলবে সাউথ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এসএ টোয়েন্টি। এই টুর্নামেন্টে নিজেদের সেরা ক্রিকেটারদের পেতেই এমন দল সাজিয়েছে তারা। এমন অবস্থায় প্রোটিয়া এই সাবেক অধিনায়ক মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেট চাপের মধ্যে রয়েছে এবং তিনি স্বীকার করেছেন যে, খেলোয়াড় এবং কোচরা পাঁচ দিনের ফরম্যাটে খেলার চেয়ে বড় অঙ্কের অর্থের লোভে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটেই ঝুঁকে পড়ছে।
এই বিষয়ে বলেন, ‘এটি (নিউজিল্যান্ডের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট স্কোয়াড) ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছে এবং এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, টেস্ট ক্রিকেট চাপের মধ্যে রয়েছে, এমনকি ওয়ানডে ক্রিকেটও এবং পুরো সিস্টেমটি এখন টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দাপটে গুটিয়ে রয়েছে। সেখানে অর্থও বেশি। তাই ক্রিকেটের সিস্টেমটাও কেন জানি না টি-টোয়েন্টিতেই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। বলতে দ্বিধা নেই, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আগামীতে ভীষণ কঠিন পরিস্থিতি আসতে চলেছে।’
