বাগেরহাটের মোংলায় ঈগল প্রতীকের কর্মীদের বিরুদ্ধে নৌকার সমর্থকদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন পরবর্তী এ সহিংসতায় নৌকার ১২ নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (৮ জানুয়ারি) রাত থেকে সোমবার (৮ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও পৌর শহরে পৃথক এ হামলার ঘটনা ঘটে।
উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন শেখ জানান, নৌকার এজেন্ট হওয়ায় রোববার রাতে মাদুরপাল্টা গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মানবেন্দ্র মল্লিক (৩৫) ও তার ভাই দিজেন্দ্র মল্লিককে (৩৩) দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন ঈগল প্রতীকের কর্মী সজল ও উজ্জল। এছাড়া একই সময়ে ওই ইউনিয়নের বাঁশতলা গ্রামে ঈগলের কর্মীদের হামলায় আহত হন নৌকার আরেক কর্মী সুমন শেখ (১৮)।
সোনাইলতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন সরদার জানান, ভোট ঈগলে না দিয়ে নৌকায় দেওয়ায় এদিন রাতে ঈগল প্রতীকের কর্মীরা সোনাইলতা গ্রামের নৌকার কর্মী রবিউল শেখ (৪২), জুবায়ের সরদার (২৩), নাজমুল সরদার (২৪), তফিম সরদার (৩৫) ও আজমল সরদারকে (৫৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। তাদেরকে উদ্ধার করে রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নাজমুলকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অপরদিকে সোমবার দুপুরে থানায় দেওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌর শহরের শ্রমকল্যাণ সড়ক এলাকায় ঈগল প্রতীকের কর্মী মো. সাকিলসহ ৫/৬ জন সংঘবদ্ধ হয়ে নৌকা প্রতীকের কর্মী আ. সালাম মোল্লা, শিউলি, কুলসুম ও ফারুক বয়াতীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের লাঠিসোটার আঘাতে নৌকার এই ৪ কর্মী গুরুতর আহত হন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে নৌকা প্রতীকের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার বলেন, আমি আমার নেতা-কর্মীদেরকে ধৈর্য্য ধরতে বলেছি। কিন্তু তারা কতক্ষণ ধৈর্য্য ধরবে, আমি বুঝতে পারছি না। পুলিশকে এসব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে বলা হলেও তারা সেটি করছেন না।
মোংলা থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, মারামারির ঘটনার অভিযোগের তদন্ত করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
