মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

শীতে কাঁপছে তেঁতুলিয়া, তাপমাত্রা ১১.৬ ডিগ্রি

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪, ১৫:৫০

দুই দিন ধরে ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে উত্তরের সীমান্তবর্তী জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। কুয়াশায় হিমশীতল ঠাণ্ডায় কাপছে উত্তরের এই জনপদ।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সকাল নয়টার দিকে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। তার আগের দিন সোমবার রেকর্ড হয়েছিল ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার চেয়ে ২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমায় বেড়েছে শীতের প্রকোপ।

বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে উত্তরের এই জনপদ। কুয়াশা থাকায় ভোর থেকে শহর ও গ্রামের সড়কগুলোতে গাড়িগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে। শীতের কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ ও নিম্ন আয়ের লোকজন। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বেলে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। চা-শ্রমিক, ভ্যান চালক, পাথর শ্রমিক, দিনমজুর থেকে নানাস্তরের শ্রমজীবী মানুষ। দৈনন্দিন রোজগার কমে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করছেন তারা। তাই জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বেরিয়েছেন নিম্ন-আয়ের পেশাজীবীরা।

ছবি: ইত্তেফাক

স্থানীয়রা জানান, দুই দিন ধরে ঘন কুয়াশার কারণে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। দুই দিন ধরে ভোরে সূর্যের দেখা মিলছে না। সোমবার দিনভর কুয়াশায় ঢাকা ছিল জেলার পরিবেশ। আজ ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে শীত লাগছে। তবে বেশি ঠাণ্ডা শুরু হয় সন্ধ্যার পর থেকে। রাত যত বাড়ে ততই শীত বাড়তে থাকে। সারারাত কুয়াশার সঙ্গে শিশির বৃষ্টি ঝরে। শিশিরও বরফের মতো ঠাণ্ডা। ঠাণ্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে।

ঠাণ্ডায় বাড়ছে রোগব্যাধি
তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা জানান, শীতের কারণে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও প্রবীণরা। উপজেলার হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে ঠাণ্ডাজনিত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি শীতজনিত রোগ থেকে নিরাময় থাকতে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

তেঁতুলিয়ার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, ‘ঘন কুয়াশা পড়েছে। সোমবারের তুলনায় ২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমেছে। মঙ্গলবার সকাল নয়টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিশেষ করে শীত বেশি লাগার কারণ বাতাসের গতিবেগ। এই গতিবেগ বেশি হলে শীতের তীব্রতা বেড়ে যায়। সেই অনুপাতে এই অঞ্চলে এখন শীতের তীব্রতা বেশি হচ্ছে। দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকায় ২৬-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড হচ্ছে।’

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে তীব্র শীতেও কর্মস্থলে যান নারী কর্মজীবীরা। ছবি: ইত্তেফাক

ফুলবাড়ীতে জেঁকে বসেছে শীত
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, পৌষের শেষে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে তাপমাত্রা অনেকটাই বাড়লেও ঘন কুয়াশার দাপট এখনও কমেনি। শ্রমজীবী ও নিম্ন-আয়ের মানুষজন পড়েছেন বিপাকে। রাতে বৃষ্টির ফোঁটার মতো ঝরছে কুয়াশা। সকাল ১০টা পর্যন্ত দেখা মিলছে না সূর্যের। ফলে  শীতে বিপাকে পড়েছেন সর্বস্তরের মানুষজন।

মঙ্গলবার (৯ জানয়ারি) সকাল নয়টায় দিনাজপুর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ৯৮ শতাংশ ও বাতাসের গতি ২ নটস।

এদিকে রাত ও দিনে তাপমাত্রা প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় দুপুর পর্যন্ত তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রমজীবী ও নিম্ন-আয়ের লোকজন প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে সময় মতো কাজে বের হতে পারছেন না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের কিছুটা উত্তাপ ছড়ালেও বিকেল হতেই তাপমাত্রা আবারও নিম্নগামী হতে থাকে।

তীব্র শীত উপেক্ষা করেই কর্মক্ষেত্রে যান কর্মজীবী ও নিম্ন-আয়ের লোকজন। ছবি: ইত্তেফাক

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, চরম বিপাকে শ্রমজীবীরা
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, পৌষের শেষে এসে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ঘন কুয়াশা ও হাড়কাঁপানো শীতে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের লোকজনের ভোগান্তির অন্ত নেই।

রাতে এবং সকালে বৃষ্টির ফোঁটার মত পড়ছে কুয়াশা। দুপুর একটা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

তীব্র শীতে জবুথবু উত্তরের জনপদ। ছবি: ইত্তেফাক

আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’

এদিকে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় দুপুর পর্যন্ত ঠাণ্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের লোকজন প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে সময় মতো কাজে বের হতে পারছে না।

ইত্তেফাক/এইচএ