বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুসাহিত্যিক খালেক বিন জয়েনউদদীন মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আজ রোববার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে নিজ ফ্ল্যাটে ঘুমন্ত অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
খালেক বিন জয়েনউদদীনের শ্যালক মো. তুষার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামীকাল সোমবার সকাল ১১টায় তার মরদেহ বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নেওয়া হবে। এরপর গ্রামের বাড়ি কোটালীপাড়ার চিত্রাপাড়া গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হবে।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. তপন বাগচী ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘গত সন্ধ্যায় তার সঙ্গে ছিলাম। তাকে রিকশায় তুলে দিলাম। কে জানতো এই আমাদের শেষ দেখা! গত ৪-৫ বছর তিনি বাংলা একাডেমিতে এলে আমার কক্ষে দীর্ঘ সময় বসে থাকতেন! কত গল্প, কত ঝগড়া, কত স্বপ্ন, কত পরিকল্পনা! সব শেষ! ক্ষমা করবেন খালেক ভাই!’
খালেক বিন জয়েনউদদীন ১৯৫৪ সালের ২৪ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার চিত্রাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো. জয়েন উদ্দীন। তিনি ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন।
খালেক বিন জয়েনউদদীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। যুদ্ধকালে যশোরের বারোবাজারে ধরা পড়ে পাকিস্তানী সেনা ছাউনিতে অকথ্য নির্যাতন ভোগ করেন এবং ৭ মাস বন্দি ছিলেন।
তার লেখা কয়েকটি গ্রন্থ হলো—‘ধান সুপারি পান সুপারি’, ‘আপিল চাপিল ঘন্টি মালা’, ‘চিরকালের ১০০ ছড়া’, ‘হৃদয় জুড়ে বঙ্গবন্ধু’, ‘নলিনীকান্ত ভট্টশালী’, ‘হুমায়ুননামা’, ‘মায়ামাখা শেখ রাসেল’, ‘বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেল’ প্রভৃতি।
খালেক বিন জয়েনউদদীন দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের ফিচার বিভাগের ‘কচি-কাঁচার আসর’ পাতাটি সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন।
শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন তিনি। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, সাউন্ডবাংলা সম্মাননা, তরিকত মিশন সম্মাননা, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ স্মৃতি পরিষদ সম্মাননা, কোটালীপাড়া গুণীজন সংবর্ধনাসহ নানা পুরস্কার অর্জন করেন।
