বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

শিশু আয়ানের মৃত্যু

লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল-ক্লিনিকের তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:০০

দেশের সব অনুমোদিত ও অননুমোদিত বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী এক মাসের মধ্যে এই তালিকা আদালতে দাখিল করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে এ পর্যন্ত কত রোগী মারা গেছেন তা জানাতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল সোমবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এছাড়া ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঐ মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

গত ৩০ ডিসেম্বর বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশু আয়ানের সুন্নাতে খতনা করা হয়। তখন তাকে এনেসথেসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। পরে তার আর জ্ঞান ফেরেনি। এরপর শিশুটিকে নেওয়া হয় ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় গত ৮ জানুয়ারি শিশুটি মারা যায়। এ ঘটনায় বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন আয়ানের বাবা শামীম আহমেদ।          

পাশাপাশি ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। ঐ রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করেন।

প্রসঙ্গত চিকিৎসা সেবার অব্যবস্থাপনা নিয়ে শনিবার দৈনিক ইত্তেফাকে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান সরকারের আমলে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে গড়ে উঠেছে। এগুলো দেখভাল করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অধিদপ্তর, বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়, সিভিল সার্জন কার্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা রয়েছেন। পাশাপাশি রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত দেখার জন্য রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি। কিন্তু এই কমিটিও কাজ করছে না। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে আলাদা বিভাগ রয়েছে। এতো কিছু থাকার পরও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, মাঠ পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনার যে চিত্র উঠে আসে, তাতে স্পষ্ট হয় যে তারা কোনো কাজই করছেন না। 

ইত্তেফাক/এমএএম