জাবিতে পরিযায়ী পাখি ছাড়াই পাখিমেলা, হতাশ দর্শনার্থীরা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৪, ১৮:০৩

‘পাখ-পাখালি দেশের রত্ন, আসুন সবাই করি যত্ন’ স্লোগানকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পাখিমেলা-২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বেলুন উড়িয়ে পাখিমেলার উদ্বোধন করেন। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাবির লেকগুলোতে তেমন কোনো পাখি নেই। মেলা উপলক্ষে রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে পাখিপ্রেমীরা এসে ভিড় জমান ক্যাম্পাসে। তবে পাখির কিচিরমিচির, খুনসুঁটি আর ওড়াওড়ি দেখতে না পেয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন তারা। যদিও ক্যাম্পাসে পাখি থাকা—না থাকার সঙ্গে পাখি মেলার সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন জাবি কর্তৃপক্ষ। 

সরেজমিনে ঘুরে আরও দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনের লেক, পরিবহন চত্বর সংলগ্ন লেক, জয়পাড়া লেক ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সামনের লেকে পাখি নেই। তবে সাধারণের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের অভ্যন্তরের লেকে পরিযায়ী পাখি আছে। ফলে লাল শাপলায় আচ্ছাদিত বাকি লেকগুলোতে তাদের কিচিরমিচির গান আর জলকেলি খুব একটা চোখে পড়ছে না। এ বছর লেকগুলোতে পরিযায়ী পাখি আশঙ্কাজনকহারে কম এসেছিল বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। আবার যাও এসেছিল তারাও অন্যত্র চলে গেছে।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে পরিবারের সঙ্গে মেলায় ঘুরতে আসেন জাহানারা খাতুন। তিনি বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে আগেও কয়েকবার পাখিমেলায় এসেছিলাম। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে অনেক পরিযায়ী পাখি দেখেছি। কি সুন্দর করে পাখিরা ওড়তো, কিচিরমিচির ডাকতো আর জলকেলি খেলতো। কিন্তু এবার কোন পাখি দেখতে পাচ্ছি না, তাই কিছুটা মন খারাপ। শুনেছি, একটা লেকে পাখি আছে, তবে সেখানে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত।’

তবে পাখিমেলা আয়োজনের সঙ্গে ক্যাম্পাসে পাখি থাকা—না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম। তিনি বলেন, ‘পাখিমেলার অর্থ এই নয় যে, সেখানে পাখি থাকতে হবে। অনেকেই বলছেন, এই ক্যাম্পাসে পাখি দিন দিন কমে যাচ্ছে। আমরা সেটিকে ধরে রাখার চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের ও পেছনের উভয় লেকে আগে পাখি বসত। ওই লেক দুটি পরিষ্কার করা হয়েছে, এরপরও পাখি বসেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাখিদের ভালোবাসতে হবে। পাখিদের প্রতি ভালোবাসা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। পাখিদের প্রতি সবাইকে দায়িত্বশীল ও যত্নবান হতে হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে প্রকৃতি ও পরিবেশ ঠিক রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাখির অভয়ারণ্য নিশ্চিত করার স্বার্থে আরোপিত বিধি-নিষেধ মানতে হবে। ক্যাম্পাসের প্রকৃতি ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে অনেক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি বন্ধ রাখা হয়েছে। এর পরেও ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে ব্যাপক সংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটছে। ব্যাপক জনসমাগম রোধ করা সম্ভব হলে পাখির অভয়ারণ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

এ বছর দিনব্যাপী মেলায় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখিবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, পাখির আলোকচিত্র ও পত্রপত্রিকা প্রদর্শনী, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা এবং সবার জন্য উন্মুক্ত পাখিবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া মেলায় পাখি সংরক্ষণে অবদান রাখায় ‘বিগ বার্ড বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড’, ‘কনজারভেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ ও ‌‘সায়েন্টিফিক পাবলিকেশ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খানের সভাপতিত্বে ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এ টি এম আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ, পাখিমেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান, বিশিষ্ট পাখি বিশারদ ইনাম আল হক, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী, আইসিইউএন-এর প্রতিনিধি সারোয়ার আলম দিপু ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আরিফুর রহমান প্রমুখ। 

ইত্তেফাক/ডিডি