সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর পর এর গ্রাহক সংখ্যা খুব ধীর গতিতে এগোচ্ছে। প্রথম এক মাসে ১২ হাজার ৮৮৯ জন গ্রাহক চাঁদা পরিশোধ করেছিলেন। মোট পাঁচ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় মাসে গ্রাহক বাড়ে ১ হাজার ৮৩১ জন ও তৃতীয় মাসে বাড়ে ১ হাজার ১৩৪ জন। চতুর্থ ও পঞ্চম মাসে ১ হাজারের কিছু বেশি গ্রাহক বেড়েছে। অর্থাত্ চালু হওয়ার পর প্রথম মাসে যে পরিমাণ গ্রাহক সাড়া দিয়েছিলেন, পরের চার মাসে তার অর্ধেকও হয়নি।
চার শ্রেণির জনগোষ্ঠীর জন্য চার ধরনের পেনশন স্কিম রয়েছে। এগুলোর নাম হচ্ছে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস। বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য ‘প্রগতি’, স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য ‘সুরক্ষা’, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাস’ এবং দেশের নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ‘সমতা’। পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চার স্কিমের মধ্যে প্রগতিতে ৭ হাজার ৫০৬ জনের ১৩ কোটি ৩১ লাখ, সুরক্ষায় ৭ হাজার ৪৭১ জনের ৮ কোটি ৬৭ লাখ, প্রবাসে ৫০৭ জনের ২ কোটি ৯ লাখ ৪৫ হাজার এবং সমতায় ২ হাজার ৫০১ জনের মাধ্যমে ৭৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা চাঁদা জমা পড়েছে। সবার জন্য চালু করা পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হতে ইউপেনশন ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট নম্বর, একটি সচল মোবাইল ফোন নম্বর, ব্যাংক হিসাব নম্বর, নমিনির এনআইডি ইত্যাদি তথ্য লাগে।
চাঁদা দিয়ে পেনশন-ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন ১৮ বছরের বেশি বয়সী যে কেউ। দেশের অন্তত ১০ কোটি মানুষ পেনশন-ব্যবস্থার আওতায় আসবেন, এমন প্রত্যাশা সরকারের রয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শুরুর দিকে শুধু সোনালী ব্যাংক ছিল পেনশন স্কিমে নিবন্ধনের সহায়তাকারী। পরে অগ্রণী ব্যাংককেও এ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে দি সিটি ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হয়েছে।
