রাজধানীর সন্নিকটে সাভার উপজেলার বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। আর এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। এলাকার অনেক স্থানে দিনে গ্যাস থাকে না। গভীর রাত ও ভোরে কিছুটা পাওয়া গেলেও তার পরিমাণ খুবই নগন্য। আবাসিক এলাকায় এমন গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ার ফলে অনেকেই রান্না করতে পারছে না। সাধারণ মানুষের এ সমস্যা সমাধানে সাভার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের যেন কোনো মাথা ব্যথা নেই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় হাজার হাজার মানুষের রান্না খাওয়া অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। পৌরবাসী গ্যাস সংকট নিরসনে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো সুফল পাচ্ছে না। নিরুপায় হয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে অনেকেই এলপি গ্যাস, বৈদ্যুতিক চুলা ও মাটির তৈরি চুলা দিয়ে রান্নার কাজ সেরে নিচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, পৌর এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে মাসের পর মাস চুলা জ্বলে না। সামান্য পানি গরম করার জন্যও গ্যাস পাওয়া যায় না। অথচ গ্রাহকদের নিয়মিত গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ সমস্যা মেটাতে তিতাস গ্যাসে যারা দায়িত্বে আছেন এ ব্যাপারে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই বললেই চলে।
অভিযোগ রয়েছে, সাভারের বিভিন্ন শিল্প ও কলকারখানায় অবৈধ ভাবে গ্যাসের সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। তাই আবাসিক এলাকাতে এমন তীব্র গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে সাভার-আশুলিয়ায় শিল্প কারখানায়ও গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ অঞ্চলের শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। প্রয়োজনের অর্ধেক গ্যাসও পাচ্ছে না অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান। অবৈধভাবে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংযোগের কারণেই গ্যাসের এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
একাধিক কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কোনো কোনো কারখানায় প্রয়োজনের অর্ধেক গ্যাসও পাচ্ছে না শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। গ্যাস সংকটের কারণে একটি মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে মাসে বিপুল অংকের টাকা বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। গ্যাস জেনারেটর থাকা শিল্প কারখানায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান শর্তাধীন সময়ে তাদের পণ্য বিদেশে সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানি আদেশও বাতিল হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অর্থনৈতিকভাবে দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
টাকা দিলেই মিলে সংযোগ। সর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে তা রোধ করা কঠিন। তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে প্রকাশ্যেই অবৈধ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
সম্প্রতি আশুলিয়ার শ্রীপুর, নতুন নগর, সুবন্দি, কন্ডা ও খালপাড় এলাকায় প্রদান করা হয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। এছাড়াও শিল্পাঞ্চলের কবিরপুর, বারৈপাড়া, জিরানী, শ্রীপুর, বাইপাইল, বুড়িরবাজার, ডেন্ডাবর, পল্লীবিদ্যুৎ, গাজীরচট, জামগড়া, বেরন, নিশ্চিন্তপুর, ঘোষবাগ, নরসিংহপুর, জিরাব, ইয়ারপুর, বেলমা, আউকপাড়া টঙ্গাবাড়ি ও কাঠগড়াসহ আশুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়িতে অবৈধভাবে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এমনকি সরকারি খাস সম্পত্তি দখলের পর ঘরবাড়ি নির্মাণ করে সেখানেও অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়েছে। এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগে ঠিকাদার ও স্থানীয় দালালরা প্রতিটি বাড়ির মালিকের নিকট থেকে ৬০-৭০ হাজার টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে অবৈধভাবে এসব গ্যাস সংযোগে স্থানীয় সরকারি দলের নেতা-কর্মীরাও জড়িত রয়েছে বলে সাভার তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে সাভারে প্রায় ৪০টি সিএনজি স্টেশন আছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতেও চাহিদা মোতাবেক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এ অঞ্চলের অনেক সিএনজি স্টেশন দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। গ্যাস সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
সাভার অঞ্চলের তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্টিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সালেহ খাদেম উদ্দিন জানান, জাতীয় পর্যায় থেকে গ্যাস সরবরাহ কম হওয়ায় কলকারখানা ও আবাসিক এলাকাগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস বিতরণ করা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে। গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে যে পার্থক্য এর জন্যই সমস্যাটা বেশি হচ্ছে। আমরা যে পরিমাণ গ্যাস পায় তা মোটামুটি সমানভাবে সরবরাহের চেষ্টা করি।
