খুলনার চাঞ্চল্যকর কলেজশিক্ষক চিত্তরঞ্জন হত্যা ও ডাকাতি মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাজু মুন্সি ওরফে গলা কাটা রাজুকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার (২০ জানুয়ারি) রাতে র্যাব-৬’র একটি আভিযানিক দল ঢাকার আশুলিয়া থানার ভাদাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার গলাকাটা রাজু নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পাঁচ কাউনিয়া গ্রামের মো. ইকরামুল মুন্সির ছেলে।
র্যাব-৬’র কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. সারোয়ার হুসাইন জানান, খুলনা মহানগরীর সদর থানার আমতলা মোড়ে স্বপরিবারে বসবাস করতেন কলেজশিক্ষক চিত্তরঞ্জন। প্রতিদিনের মতো নগরীর পিটিআই মোড়ের নিজ নামের চিত্ত স্যারের ব্যাচ শেষ করে তিনি ২০১৭ সালের ১৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসায় ফেরেন। ঐ দিন রাতে ডাকাতির উদ্দেশে বাসার জানালার গ্রিল কেটে ডাকাতদল ভেতরে প্রবেশ করে। গৃহকর্তা চিত্তরঞ্জন ডাকাত দলকে বাধা দিলে তারা তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে হত্যা করে লাশ খাটের ওপর ফেলে রাখে। পরে তারা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহত চিত্তরঞ্জনের ভাই বাদি হয়ে খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিচারকাজ শেষে ২০২১ সালের ১১ মার্চ খুলনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দুজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গ্রেপ্তার পলাতক আসামি রাজু মুন্সি ওরফে গলা কাটা রাজুকে রোববার (২১ জানুয়ারি) সকালে খুলনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে খুলনা সদর থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর স্ত্রী হত্যা মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. মনিরুজ্জামানকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে। গত শনিবার রাতে পুলিশ নগরীর রূপসা চানমারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত মনিরুজ্জামান নগরীর চানমারী এলাকার ডা. আলতাফ হোসেন লেনের মো. মোফাজ্জেল হোসেন খানের ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেন খুলনা সদর থানার ওসি মো. কামাল হোসেন।
