৯২ কোটি টাকা আত্মসাৎ

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীকে যাবজ্জীবন শত কোটি টাকা জরিমানা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:৩০

স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানির নামে প্রায় ৯২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের হওয়া মামলায় এক ব্যবসায়ীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই রায়ে আদালত তাকে ১০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করেছে। এছাড়া পৃথক ধারায় আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।

গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আব্দুল মজিদ এ রায় দিয়েছেন বলে দুদকের পিপি কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি জানান, দণ্ডিত মজিবুর রহমান মিলন জাহাজ ভাঙা কারখানা মুহিব স্টিল অ্যান্ড শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রির মালিক। তার বাড়ি ফেনী জেলায়। বাসা নগরীর হালিশহরে। মজিবুর এখন পলাতক আছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানির জন্য ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘির পাড় শাখা থেকে মজিবুর রহমান মিলনের নামে ৪৫ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়। ২০১০ সালের ২৬ এপ্রিল সেই ঋণসীমা ৮৯ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। ঐ বছরের ৭ মে মজিবুর ৪০ কোটি টাকার ঋণপত্র খোলেন। মজিবুর কোরিয়া থেকে ১২ হাজার ৪৩৩ মেট্রিকটনের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি করেন, যা ২০১১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঐ জাহাজের দাম হিসেবে ৪৮ কোটি ৫৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৪ টাকাসহ তিন দফায় ৮২ কোটি ৮৯ লাখ ১২ হাজার ৪৪ টাকা নিট ঋণ মজিবুরের প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, কিছু অর্থ পরিশোধের পর ২০১৭ সালের ৩০ মে পর্যন্ত মজিবুরের কাছ থেকে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়ায় ৯১ কোটি ৯২ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯২ টাকা। মজিবুর অর্থ পরিশোধ না করে লাপাত্তা হয়ে যান, এমনকি তার পরিবারের সদস্যরাও গা-ঢাকা দেন।

এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগের পর দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ২৪ মে নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত পলাতক মজিবুর রহমান মিলনের বিরুদ্ধে সাজামূলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানান দুদক পিপি।

ইত্তেফাক/এমএএম