জাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ১৬:৫৪

জমি দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান লিটনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন নেতা-কর্মীরা। 

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফের পরিবহন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন তারা।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে মো. হাবিবুর রহমান লিটনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সেগুলো হলো- কর্মীদের নিয়ে চিন্তা না করে বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী ও এলাকার ‘জমি দখল’, ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকা, সংগঠনের কর্মীদের খোঁজ না রাখা, কমিটির দুই বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে সমন্বয় না করা, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও রাজনীতি বিকেন্দ্রীকরণ না করে নিজ হল কেন্দ্রিক চিন্তাচেতনা পোষণ করা, প্রত্যেকটি হলের কর্মীসভা করেও দীর্ঘদিন যাবৎ হল কমিটি না দেওয়া এবং হল কমিটির বিষয়ে কথা বলতে চাইলে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাজ্জাদ শোয়াইব চৌধুরী বলেন, ‌‘আমরা বিভিন্ন হলের নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়েছি। মো. হাবিবুর রহমান লিটন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়া থেকে আজ পর্যন্ত কর্মীদের খোঁজ না রাখেননি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ ও নৈতিক স্খলনের প্রতিবাদে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।

মিছিল ও সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক লেলিন মাহবুব ও আরাফাত ইসলাম বিজয়, সাংগঠনিক সম্পাদক চিন্ময় সরকার, সহসভাপতি জাহিদুজ্জামান শাকিল ও ফয়সাল খান রকি এবং অর্থ-সম্পাদক তৌহিদুল আলম তাকিদ নেতৃত্ব দেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, ‘আমি সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসেই অবস্থান করি। তাই শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের কথা ভাবি এমন কথা ঠিক নয়। তাছাড়া জমি দখলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। এমন অভিযোগের বিষয়েও কেউ কোনো উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারবে না।’

এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

ইত্তেফাক/পিও