প্রযুক্তিতে নারীর অগ্রযাত্রায় কাজ করছে জোবায়েদা সুলতানা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ২১:৫১

প্রযুক্তিখাতে নারীদের অগ্রযাত্রায় কাজ করছেন ‘একবাজ’ স্টার্টআপের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা জোবায়েদা সুলতানা। দেশের অন্যতম অ্যাম্বেডেড ফাইন্যান্সিং এবং Gen-AI ক্ষমতায়িত বিটুবি মার্কেটপ্লেস ‘একবাজ’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টার তিনি। নিজের ঘর সামলানোর পাশাপাশি বর্তমানে তিনি হয়ে উঠেছেন প্রায় ১০০ কর্মীর অভিভাবক। একাধারে তিনি যেমন তার সন্তানের কথা ভাবেন, ঠিক তেমনি করেই ভাবেন তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কথা এবং তাদের পরিবারের কথা।

জোবায়েদা সুলতানা ২০০৫ সালে ঢাকা সিটি কলেজ থেকে মার্কেটিং-এ স্নাতকোত্তর শেষ করেন। তবে তার কর্মজীবনের যাত্রা শুরু হয় স্নাতকে পড়ালেখা করা অবস্থায়। ২০০৩ সালে তিনি ‘ইন্টারটেক’ নামে একটি বহুজাতিক পরিষেবা সিস্টেম কোম্পানিতে কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ পদে যোগদান করেন। পরবর্তিতে একই প্রতিষ্ঠানে ক্রমান্নয়ে পদোন্নতি পেয়ে সেলস ম্যানেজার পদে ১২ বছর সুনামের সঙ্গে কাজ করেন। এরপরে তিনি চলে যান সিঙ্গাপুরে। ২ বছর কাজ করেন সিঙ্গাপুরের একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে। আর এই ২ বছর তার জীবনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সিঙ্গাপুরে থেকে গেলে তিনি হয়তো আরও অনেক বেশি সুযোগ সুবিধা পেতেন। তার ক্যারিয়ার হয়তো আরও প্রশস্ত হতে পারতো। কিন্তু তিনি দেশে ফিরে এলেন। তিনি বলেন দেশে ফেরার পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, নিজের পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ। দ্বিতীয়ত, দেশকে প্রযুক্তিতে এগিয়ে নেওয়ার, দেশের মানুষের কাছে প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কিছু করা।

নিজের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, একবাজ, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি অ্যাম্বেডেড ফাইন্যান্সিং Gen-AI ক্ষমতায়িত বিটুবি মার্কেটপ্লেস। আমরা ওয়েব এবং মোবাইল এপ্লিকেশনের মাধ্যমে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মুদি দোকানদারদের ব্যবসা ডিজিটালাইড করে তাদের ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সহজ সমাধানে কাজ করছি। বর্তমানে একবাজের সাথে প্রায় ১ লাখ মুদি দোকানদার তাদের ব্যবসায় উন্নয়নে কাজ করছে। সবার একান্ত প্রয়াসে, একবাজ দ্রুত সময়ে আন্তর্জাতিক স্টার্টআপে পরিণত হয়েছে, বাংলাদেশের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামে কাজ করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিধি বৃদ্ধি করতে তার নানান পরিকল্পনা রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানের সূচনালগ্নের গল্পকে তিনি নিজ সন্তানের সাথে তুলনা করে বলেন, আমার জন্য আমার কাজটা, আমার স্বপ্নটা, আমার উদ্যোগটা কেবল আমারই। আমি আমার স্বপ্নের হাত ধরে বহু দূর হেঁটে যেতে চাই।

নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা করার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের অনেক বাধা রয়েছে। যার মধ্যে প্রশিক্ষণ অন্যতম সমস্যা। তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এটা না হলে ব্যবসা শুরুর পর নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এরসঙ্গে আছে সামাজিক বাধা, যদিও এটা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। পারিবারিকও সামাজিকভাবে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। তবে একজন নারী ব্যবসা করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা আরও বেশি প্রয়োজন। অর্থায়ন নারীর ব্যবসার ক্ষেত্রে বড় বাধা। অবশ্য বর্তমান সরকার উদ্যোক্তা বান্ধব হওয়ায় এ সমস্যার কিছুটা লাঘব হয়েছে। নারীদের এগিয়ে নিতে অনেক কাজ করছে সরকার। তরুণ ও নারী উদ্যোক্তারা যাতে সহজে ঋণ পেতে পারেন, সেজন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশনসহ অন্য ঋণদানকারী সংস্থা। তবে ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা দরকার।

জোবায়েদা সুলতানা কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জনে ব্যাপকভাবে বিদেশ ভ্রমণ করেছেন ব্যবসায় উদ্যোগে এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি ভ্রমণ করেছেন ইউএসএ, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশ। ব্যবসার বাইরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণ মূলক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

তিনি চান দেশের নারীরা প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় নিজেদের সম্পৃক্ত করুক।

ইত্তেফাক/পিও