নওগাঁয় শীতের তীব্রতা বাড়ছেই

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:১০

নওগাঁর ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় দিন দিন শীতের তীব্রতা বেড়েই চলছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭-১০ ডিগ্রিতে উঠানামা করছে।

‘বিকেলে জমি থেকে সবজি কিনে নওগাঁ শহরে বিক্রি করি। কিন্তু প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশায় কয়েক দিন থেকে ঘরের বাইরে ঠিক মতো বের হওয়া যাচ্ছে না। ঠিকমতো সবজি বিক্রি করতে না পারায় অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছি’
- ইমরান আলী, সবজি বিক্রেতা

শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল নয়টার দিকে বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা এটিই চলতি শীত মৌসুমে নওগাঁয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আগের টানা তিনদিন ৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

নওগাঁর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে বিভিন্ন এলাকা। এর সঙ্গে বয়ে চলা উত্তরের হিমেল হাওয়া। ঘন কুয়াশার কারণে বিভিন্ন সড়কে ধীরগতিতে যান চলাচল করতে দেখা গেছে। কিছু কিছু যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। তবে ঘন কুয়াশার চাদরে প্রকৃতি ঢাকা পড়লেও জীবিকার তাগিদে সাত সকালেই বের হন খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা।

ঘন কুয়াশার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। চলছে হেডলাইট জ্বেলে। ছবি: ইত্তেফাক

অন্যদিকে তীব্র শীত আর কুয়াশার কারণে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়তই ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও প্রবীণরা।

‘জেলা সদরসহ ১১ উপজেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা স্বাভাবিক হলেও বিশেষ করে শিশুরাি ডায়রিয়া রোগে একটু বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সপ্তাহে গড়ে সাড়ে ৪০০ ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন’
- রায়হানুজ্জামান সরকার
সিভিল সার্জন, নওগাঁ

সদরের বক্তারপুর এলাকায় কৃষক কাশেম সরদার বলেন, ‌‘সকাল থেকে কুয়াশায় কিছু দেখা যাচ্ছে না। কোনো কাজ করা যাচ্ছে না। আমরা তো কষ্টের মধ্যে আছি। গবাদিপশুও নিয়েও বড় বিপদে পড়েছি।’

নওগাঁয় ঘন কুয়াশা। ছবি: ইত্তেফাক

সবজি বিক্রেতা ইমরান আলী বলেন, ‘বিকেলে জমি থেকে সবজি কিনে নওগাঁ শহরে বিক্রি করি। কিন্তু প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশায় কয়েক দিন থেকে ঘরের বাইরে ঠিক মতো বের হওয়া যাচ্ছে না। ঠিকমতো সবজি বিক্রি করতে না পারায় অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছি।’

নওগাঁর সিভিল সার্জন রায়হানুজ্জামান সরকার বলেন, ‘জেলা সদরসহ ১১ উপজেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা স্বাভাবিক হলেও বিশেষ করে শিশুরাি ডায়রিয়া রোগে একটু বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সপ্তাহে গড়ে সাড়ে ৪০০ ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।’

নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন, ‘আজ শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে নওগাঁর ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামলে তাকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। এছাড়া ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা আরও নিচের দিকে নেমে যেতে পারে।’

ইত্তেফাক/এইচএ