গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে, এই অভিযোগে গত ডিসেম্বরে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) বা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা দায়ের করে দক্ষিণ আফ্রিকা। মামলার রায় আজ (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রদান করার কথা রয়েছে।
তবে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে কিনা কিংবা ইসরায়েল দোষী কিনা এই ধরনের কোনো রায় আইসিজে দিবে না বলে লাইভ প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
গণহত্যার রায় অনেক দূরের বিষয়। কিন্তু এর মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যার অভিযোগটি যুক্তিসঙ্গত কিনা এবং যদি যৌক্তিক হয় তাহলে এই পরিস্থিতিতে যা ‘অস্থায়ী ব্যবস্থা’ হিসেবে পরিচিত তা গ্রহণের উপযুক্ত কিনা আদালত সেই সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গণহত্যার সম্ভাবনা এড়াতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অবিলম্বে স্থগিত করা ও গাজায় মানবিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য সহজীকরণ সহ নয়টি পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
আইসিজের রায়গুলো প্রয়োগযোগ্য নয় এবং ইসরায়েল প্রায় নিশ্চিতভাবে যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে উপেক্ষা করতে পারে৷
আদালত দক্ষিণ আফ্রিকার সকল কিংবা অস্থায়ী কিছু অনুরোধ হয়তো মঞ্জুর করতে পারে। অথবা সম্ভবত নতুন কোনো আদেশও দিতে পারে। ইসরায়েল যুক্তি দিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার মামলার কোনও যথার্থতা নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
মামলাটি কৌশলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যেতে পারে। ইসরায়েলের যুক্তি হলো, দেশ দুটির মধ্যে কোনো ‘বিরোধ’ ছিল না (আইসিজের নিয়মে যেটা প্রয়োজনীয়)। দক্ষিণ আফ্রিকা আদালতে আবেদন করার আগে ইসরায়েলের সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ করেনি।
কিন্তু আদালত যদি দেখেন যে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলাটি অন্তত প্রশংসনীয়, তবে এটি ইসরায়েলের জন্য গুরুতর কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক পরিণতির কারণ হতে পারে।
আইসিজের স্থায়ী ১৫ বিচারক কীভাবে মামলাটি বিচার করবেন সেটাই এখন আগ্রহের বিষয়। পশ্চিম এবং গ্লোবাল সাউথ উভয়েরই বিচারকের বেঞ্চে শক্ত প্রতিনিধি রয়েছে। নিয়ম অনুসারে ইসরায়েল ও দক্ষিণ আফ্রিকা উভয়ই এই মামলার জন্য অ্যাড-হক বিচারক নিয়োগ করেছে।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, গাজার যুদ্ধের বিষয়ে বিশ্বের যে দৃঢ় ভিন্নমত রয়েছে সেটি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রতিফলিত হবে কি না।
