বিজিএমইএ নির্বাচন

৪২৯ ভোটারের বিষয়ে আপত্তি ফোরাম প্যানেলের

নতুন করে ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবি

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ১৭:২৮

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ২০২৪-২৬ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের ভোটার তালিকাকে 'পক্ষপাতদুষ্ট ও অগ্রহণযোগ্য' বলে দাবি করেছে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ফোরাম প্যানেল। তাদের অভিযোগ, সদ্য প্রকাশিত প্রাথমিক ভোটার তালিকায় থাকা ৪২৯ জনের কর প্রদানের তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি।

গত বুধবার সংগঠনের নির্বাচন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর ওই ভোটারদের নাম ও করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সম্বলিত একটি তালিকাসহ আপত্তিপত্র দেওয়া হয়। ফোরেম প্যানেল লিডার ফয়সাল সামাদের সই করা ওই আপত্তিপত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পুনরায় নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়েছে।

দুই বছর মেয়াদি বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ গত এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে কমিটির মেয়াদ দুই দফায় ছয় মাস করে এক বছর বৃদ্ধি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সে ধারাবাহিকতায় আগামী ৯ মার্চে হতে যাচ্ছে বিজিএমইএর ২০২৪-২৬ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। প্রতিবারের মতো এবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে দুটি প্যানেল- ফোরাম ও সম্মিলিত পরিষদ।

নির্বাচন আপিল বোর্ডে দেওয়া ওই আপত্তিপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ জানুয়ারি প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচনী বোর্ড। এ তালিকায় থাকা ভোটারদের তথ্য এনবিআরের ওয়েবসাইটের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে (তল্লাশি) দেখেছেন আপত্তিদাতা। এতে দেখা যায়, ভোটার তালিকায় ৪২৯ জন এমন ভোটার রয়েছেন, যাদের আয়কর প্রদান সংক্রান্ত তথ্য ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি। এরপর ওই ৪২৯ জনের নাম, তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা ও টিআইএন সম্বলিত একটি তালিকা রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচন বোর্ড বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ১৯৯৪, বিজিএমইএ-এর সংঘ-বিধি এবং নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। তাই একটি নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তর (এনবিআর, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ) থেকে যাচাই-বাছাই করে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

এ তালিকাকে পক্ষপাতদুষ্ট ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে এতে বলা হয়, প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকায় এ ভোটার তালিকা বাতিল করে নতুন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার দাবি জানানো হয়। নাহলে এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেও বলা হয়।

এবারের নির্বাচনে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিন নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বোর্ডের অন্য দুই সদস্য হলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি শমী কায়সার এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাবেক সভাপতি এ এস এম নাঈম। 

অন্যদিকে আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকার (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভীরুর রহমান। বাকি দুই সদস্য হলেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি খায়রুল হুদা ও পরিচালক নিজামুদ্দিন রাজেশ।

ফোরাম প্যানেলের আপত্তির বিষয়ে নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলামিন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে কিছু জানেন না উল্লেখ করে আপিল বোর্ড বিষয়টি দেখবে বলে জানান। তিনি বলেন, বিজিএমইএ-তে থাকা নথির ভিত্তিতে প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। কারো কোনো আপত্তি থাকলে তিনি আপিল বোর্ডের কাছে সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারেন।

আপিল বোর্ডের সদস্য নিজামুদ্দিন রাজেশও জানান, ওই ৪২৯ ভোটারের টিআইএন সংক্রান্ত সমস্যার কথা তার জানা নেই। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তিনি বিজিএমইএ থেকে একটি ইমেইল পেয়েছেন। এতে আগামী ২৭ জানুয়ারি ও ৩ ফেব্রুয়ারি বৈঠকের মাধ্যমে বোর্ডের কাছে জমা পড়া অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বলা হয়েছে।

এ অভিযোগের বিষয়ে অবগত নন- এমনটা জানিয়েছে সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসানও। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আপিল বোর্ড জানতে পারে। আর কোনো কিছু নিয়ে আপত্তি থাকলে তা জানানোর জন্য নির্ধারিত সময় রয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি