জলবায়ু পবির্তনের প্রভাবে সৃষ্ট বিপদাপন্ন আফরিন ও তার পরিবারের জীবন সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে চিত্রায়িত “মাইটি আফরিন ইন দ্যা টাইম অব ফ্লাডস” চলচ্চিত্রের প্রযোজক, নির্মাতা ও কলা কুশলীদের এক সংবর্ধনা প্রদান করা। সংবর্ধনাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
শনিবার (২৭ জানুয়ারি) এটিএন বাংলার ওয়াসা ভবনস্থ কার্যালয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন। সভাপতিত্ব করেন এটিএন বাংলার অনুষ্ঠান বিভাগের উপদেষ্টা তাশিক আহমেদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্রটির রাইটার, সিনেমাটোগ্রাফার ও ডিরেক্টর গ্রীক নির্মাতা এ্যাঞ্জেলোস স্তাভ্রোস র্যালিস, এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হাফিজ উদ্দিন মুন্না ও লিড অ্যাক্ট্রেস আফরিন খাতুন, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির পরিচালক ড. এস.এম মোর্শেদ, অভিনেতা বাদল শহীদ, সিনেমাটোগ্রাফার মাঝার রাজু প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠির যে পরিসংখ্যান আমরা পাই তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওদের গবেষণা থেকে আসে। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারিভাবে এ বিষয়ে কোন তথ্য নেই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জলবায়ু ঝুঁকির কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠির ওপর দেশব্যাপী জরিপের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই সেক্টরে বহুমাত্রিক সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্য এবং সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয়িত অর্থের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইতিপূর্বে ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠির জন্য যে সাহায্য এসেছে তা ব্যবহারে অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে। তাই জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য গঠিত তহবিল যাতে সঠিকভাবে ব্যবহার হয় তার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
কিরণ আরো বলেন, চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে আফরিন খাতুন নামে যে এতিম মেয়েটি অভিনয় করেছে, তার রিয়েল লাইফের ঘটনা। আফরিন বর্তমানে ঢাকার একটি শেল্টাররুমে থাকছে। তার ভবিষ্যৎ ও লেখাপড়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিৎ। আমাদের সমাজে জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে অনেক আফরিন ও তার পরিবার দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে।
এখানে উল্লেখ্য “মাইটি আফরিন ইন দ্যা টাইম অব ফ্লাডস” একটি আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে কুড়িগ্রামের কালির আলগা চরের আফরিন নামের ১২ বছরের মা-বাবা হারানো একটি এতিম মেয়ে। যে কালির আলগা চরটি এখন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই চলচ্চিত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যার ফলে বিপদাপন্ন আফরিন ও তার পরিবারের জীবন সংগ্রামের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
