সমুদ্র যাত্রায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমোদতরি, ৭ সুইমিংপুলসহ কী আছে এতে

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ১৬:৪৮

সাগরের বুকে যাত্রা শুরু করেছে বিশ্বের বৃহত্তম প্রমোদতরি ‘আইকন অব দ্য সিজ’। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি, ফ্লোরিডা থেকে জাহাজটি তার প্রথম সমুদ্রযাত্রা যাত্রা করেছে। প্রথম যাত্রায় এতে যত সংখ্যক যাত্রী উঠেছেন, তা ছোটখাটো একটি শহরের জনসংখ্যার সমান। তবে জাহাজ থেকে মিথেন নির্গমন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

৩৬৫ মিটার দীর্ঘ (১ হাজার ১৯৭ ফুট) আইকন অব দ্য সিস-এ ২০টি ডেক রয়েছে এবং এটিতে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬০০ জন যাত্রী উঠতে পারে। জাহাজটি রয়্যাল ক্যারিবিয়ান গ্রুপের মালিকানাধীন। প্রথম সমুদ্র যাত্রায় জাহাজটি ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপ-হপিংয়ে সাত দিনের সফরে যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি প্রমোদতরিটির উদ্বোধন করেন।

পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চালিত জাহাজ থেকে বাতাসে ক্ষতিকারক মিথেন গ্যাস নির্গমন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ফিনল্যান্ডের তুর্কুর শিপইয়ার্ডে জাহাজটি নির্মাণ করতে ৯০০ দিন সময় লেগেছে। বাহামা-নিবন্ধিত জাহাজটিতে ৭টি সুইমিং পুল ও ছয়টি ওয়াটার স্লাইড রয়েছে। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ২০০ কোটি ডলার। এতে রয়েছে ৪০টির বেশি রেস্তোরাঁ, বার এবং লাউঞ্জ। এর ক্রুর সংখ্যা ২ হাজার ৩৫০।

যাত্রীদের একঘেয়েমী কাটাতে প্রমোদতরিতে বিভিন্ন ধরনের সুব্যবস্থা রয়েছে। আছে ৪০ হাজার গ্যালন পানির একটি ‘হ্রদ’। এতকিছুর পরেও এরপরও যাত্রীদের একঘেয়ে লাগলে তাদের জন্য সুরের জগতে হারানোর বন্দোবস্ত রেখেছে কর্তৃপক্ষ। প্রমোদতরিটিতে আছেন ৫০ জন সংগীতশিল্পী ও কমেডিয়ান। আছে অর্কেস্ট্রার আয়োজনও।

২০০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত প্রমোদতরিতে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, প্রমোদতরিটি পরিবেশবান্ধব তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসে (এলএনজি) চলবে।

রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল প্রমোদতরিটিতে বেতারতরঙ্গ ব্যবস্থায় পরিচালিত পাইরোলাইসিস প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। এ প্রযুক্তির সাহায্যে বর্জ্যকে জ্বালানি গ্যাসে পরিণত করা হয়। জাহাজে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে রিভার্স অসমোসিস ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

প্রথম যাত্রার টিকিট সব আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। কোম্পানি বলেছে, টিকিটের জন্য নজিরবিহীন চাহিদা দেখা গেছে। এক সপ্তাহ ধরে ক্যারিবীয় সাগরে ঘুরে বেড়ানোর পর মায়ামিতে ফিরে আসবে প্রমোদতরিটি।

এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমোদতরির খেতাব ছিল রয়েল ক্যারিবিয়ানেরই তৈরি ‘ওয়ান্ডার অব দ্য সিজ’-এর দখলে।

তথ্য সূত্র- বিবিসি

ইত্তেফাক/এসএটি