মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানে এক চা শ্রমিক ও সিএনজি অটোরিক্সা চালকের বাসায় ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতেরা ঘরের দরোজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে সবাইকে বেঁধে ও এক শিশুর গলায় দা ধরে মালামাল, স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুটে নিয়েছে ডাকাতরা।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টায় চা বাগানের ৬ নম্বর শ্রমিক বস্তিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ৩টায় পাশ্ববর্তী কানিহাটি চা বাগানে নারায়ন বীনের বাসায় একইবাবে দরোজা ভেঙে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।
শমশেরনগর চা বাগানের সিএনজি অটোরিকশা চালক অন্তর রাজভর বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত রাত পৌনে দুইটায় ১০ থেকে ১২ জনের মুখোশপরা সশস্ত্র ডাকাত দল বাসার কলাপসিবল গেইট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। এ সময় ঘুম থেকে উঠলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমাকে ও আমার বাবাকে এক রশিতে বেঁধে ফেলে। মাসহ ঘরের মহিলাদের বেঁধে একটি শিশুর গলায় লম্বা দা ধরে আলমারী ভেঙে তছনছ করে।
এ সময়ে নগদ ৩০ হাজার টাকা, আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ৫টি মোবাইল ফোন, একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি, সিলিন্ডারসহ গ্যাসের চুলা ও একটি ডিভিডিসহ প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নেয়।
পার্শ্ববর্তী কানিহাটি চা বাগানের নারায়ন বীনের ছেলে সঞ্জীব বীন বলেন, ‘একইভাবে ডাকাতদল এ বাসারও দরোজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে সবাইকে বেঁধে নগদ ৬০ হাজার টাকা, ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, বিক্রির জন্য রাখা ১৫টি মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নেয়।’
কানিহাটি চা বাগনের ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, ‘একইভাবে পাশাপশি দুটি চা বাগানে ডাকাতি ঘটনায় সাধারণ শ্রমিক পরিবারে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’
শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ বলেন, ‘যেভাবে ডাকাতি হয়েছে তাতে বাধা দিলে বাসার লোকজন হতাহত হতে পারতেন। ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: বাড়ানো হলো অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধন আবেদনের সময়
শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) অরুপ কুমার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।’
ইত্তেফাক/নূহু
