ইউএস বাংলা হাসপাতাল

ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু অভিযোগে তুলকালাম কাণ্ড, আহত ৯ 

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ২০:৪১

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনা নিয়ে নিহত নবজাতকের স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলকালাম ঘটনা ঘটে। এ সময় ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গেলে দৈনিক কালবেলার স্থানীয় প্রতিনিধিকে বেধড়ক মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হামলায় নারীসহ ৯ জন আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে।

নবজাতকের বাবা শাহীন মিয়া জানান, তিনি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মাহফুজা আক্তারকে ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রসবের সময় হলে ডা. সাবিহা শিমুল তার স্ত্রীকে ইনজেকশন দেয়। এরপর এ হাসপাতালে চিকিৎসা হবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরে ঢাকার মগবাজার আদ্ব-দীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার নবজাতক মারা গেছেন বলে ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে জানতে নবজাতকটির স্বজনরা হাসপাতালে যায়। একপর্যায়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বজনদের ওপর চড়াও হয়। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে তুলকালাম ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের লোকজনের হামলায় নবজাতকের স্বজন সানোয়ার সিকদার, আনোয়ার সিকদার, মাহমুদা আক্তার, আম্বিয়া খাতুন, আক্তার হোসেন, শাহীন মিয়াসহ ৯ জন আহত হয়।

এ ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গেলে দৈনিক কালবেলার রূপগঞ্জ প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর মাহমুদকে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বেধড়ক মারধর ও লাঞ্ছিত করে। একপর্যায়ে তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায়শ ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এছাড়া চিকিৎসার সময় ডাক্তারদের অবহেলা ও গাফলতির অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তারা চিকিৎসার নামে রোগীদের গলা কাটে। এদিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বড় ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দিবেন সাংবাদিকরা।

রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খলিল সিকদার বলেন, ইউএস বাংলার বিরুদ্ধে প্রায়শ ভুল চিকিৎসার অভিযোগ পাওয়া যায়। তারা চিকিৎসার নামে রোগীদের গলা কাটে। সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় বিচার না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এ ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুনের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

রূপগঞ্জ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, এ ঘটনার ব্যাপারে আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে শুনলাম। অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এবি