সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের ১০৯ নং চর কালিদাসগাঁতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে পড়াশুনা করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষের সংকটসহ নানাবিধ সমস্যায় পাঠদান কার্যক্রম দারুনভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়টির একটি দ্বিতল ভবনে জরাজীর্ন অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় ধ্বসে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। একটি টিনসেড ঘরও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ক্লাশ করছে। শিক্ষকরাও ঝুঁকি নিয়ে সারাদিন পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বৃটিশ শাসনামলে ১৯২১ সালে এই এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তিদের উদ্যোগে দানশীল ব্যাক্তিদের অনুদানে ৩৩ শতাংশ জায়গার ওপর চর কালিদাসগাঁতী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণায় বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। এরপর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অনেক সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে।
স্বাধীনতার পর যে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল সেটি এখন পরিত্যাক্ত। ১৯৯২ সালে একটি টিনসেড ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল সেটির অবস্থায় খুবই নাজুক। কয়েক বছর যাবৎ এই ভবনে শিক্ষাক্রম পরিচালনা বন্ধ রয়েছে। ২০০৩ সালে একটি ৪ কক্ষের দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন ছাদের প্লাস্টার ও খোয়া ভেঙে পড়ছে। চরম ঝুঁকি নিয়ে এ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।
এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬শ শিক্ষার্থী রয়েছে। এখানে ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। ১৪ জনের ১২ জন নারী শিক্ষিকার জন্য নেই বসার কক্ষ। এমনকি টয়লেট পর্যন্ত নেই। দ্বিতল ভবনে মাত্র ১টি টয়লেট রয়েছে। সেটিও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নারী শিক্ষকরা পাশের বাড়িতে গিয়ে জরুরি কাজ করতে বাধ্য হন। আসবাবপত্রের সংকট তীব্র। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের বসার বেঞ্চের অভাব।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, জরাজীর্ণ ভবনটির কারণে তিনি প্রতিদিন দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে স্কুলে আসেন। কখন ছাদ ধ্বসে পড়ে দূর্ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ ভয়ে ভয়ে ক্লাশ নিয়ে থাকেন।
তিনি জানান, এই বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো নিয়ে বারবার পত্র দিয়েছেন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে। ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগে যোগাযোগ করেছেন কিন্তু কোন কাজ হয়নি।
আরও পড়ুন: মনপুরার মেঘনা পাড়ে ৩টি কনটেইনার
কর্তৃপক্ষ কেন এই স্কুলের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন না তাও বুঝতে পারছেন না এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ। দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ।
ইত্তেফাক/নূহু
