মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দালালমুক্ত ও রাজস্ব বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়ায় প্রশংসিত হয়েছেন বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাঃ সেলিনা আকতার। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি।
এতে করে অনিয়ম ও দুর্নীতি মুক্ত হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বেড়েছে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ। পাশাপাশি স্বস্তি ফিরেছে জনমনে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকল রকম সেবা প্রত্যাশীদের সেবা নিশ্চিত করতে সর্বত্র অফিস এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রস্তুতি চলছে ।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের কার্যক্রম দেখে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, এই এক বছরে অনেকটাই বদলে গেছে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিত্র। সকল ক্ষেত্রেই পরিবর্তন লক্ষণীয়। এতে করে হাসপাতালে বেড়েছে রোগীদের আনাগোনা। সীমিত জনবল, তীব্র স্থানাভার সত্বেও আন্তরিকভাবে সেবার মানসিকতা নিয়েও যে লক্ষণীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব তাই যেন প্রমাণ করেছে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ডা. মোছাঃ সেলিনা আকতারের যোগদানের পর হতেই হাসপাতালটিকে তিনি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়মিত উপস্থিত নিশ্চিত করার পাশাপাশি সকলকে তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য সঠিকভাবে পালনের নির্দেশনা প্রদান এবং যে সকল বিষয়ে নিয়মিত তদারকি মাধ্যমে কঠিন চ্যালেঞ্জিং এই কাজটি তিনি করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলশ্রুতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল কার্যক্রমে দৃশ্যমান পরিবর্তনে এসেছে।
বিগত তিন বছর অর্থাৎ ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ ইং পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, ২০২১ সালে সর্বমোট ইউজার ফি জমা হয়েছে ৮ লাখ ৫৬ হাজার ১৪৯ টাকা, ২০২২ সালে যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬১ হাজার ৪২১ টাকা এবং কেবলমাত্র ২০২৩ সালেই ইউজার ফি জমা হয়েছে ১৪ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩৬৭ টাকা যা শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইতিহাসে এযাবত কালের সর্বোচ্চ রাজস্ব। এ সকল ইউজার ফি আদায় হয়েছে হাসপাতালের আউটডোর, প্যথলজি, বেডকেবিন, ইসিজি, অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরী বিভাগ হতে। সর্বমোট ইউজার ফি আদায় হয়েছে প্যথলজি বিভাগ হতে ৫ লক্ষ ৩ হাজার ২৬০ টাকা যা ছিল ২০২২ সালে ১ লক্ষ ৭১ হাজার ৬৯০ টাকা । অর্থাৎ বিগত ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে কেবলমাত্র প্যথলজি বিভাগ হতেই ৩ লক্ষ ৩১ হাজার ৫৭০ টাকা বেশি রাজস্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন বিভাগে সেবার ক্ষেত্রে নজির স্থাপন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাঃ সেলিনা আকতার এই প্রতিবেদককে বলেন, অনেক অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে কাজ করি আমরা। আপনারা জানেন যে, এখান ১০০ শয্যায় উন্নীতকরনের জন্য নির্মাণ কাজ চলমান। যেখানে ৩১ শয্যায় ভবন ছিল। যেখানে ১০০ শয্যার নির্মাণ কাজ চলছে। ১৯ শয্যার ভবনটিকে আমরা আমাদের সেবা কার্যক্রম চালু রেখেছি। তীব্র স্থানাভার সত্বেও কোনো কার্যক্রম কিংবা বিশেষ সেবা কর্মসূচিগুলো বন্ধ রাখা হয়নি। এনসিডি কর্নার সেবা, টেলিমেডিসিন, আলট্রাসনোগ্রামসহ আরও বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য আলাদা স্থানের প্রয়োজনীয়তা থাকে, স্থানাভার থাকলেও আমরা এই কার্যক্রম বন্ধ বা আপাতত স্থগিত রাখেনি। এবং সবকিছুই পুরোদমে চলছে। শুধু রাজস্ব আদায়ই নয়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী এখান থেকে জরুরি বিভাগ, বহিঃবিভাগ এবং আন্তঃবিভাগ থেকে সেবা নিয়েছে। আর প্রায় ৫ লক্ষের কাছাকাছি জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই শিবচরের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে আমরা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবং এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের ভূমিকা রাখতে পারব। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের ৭ বারের সফল সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী এবং জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুনীর আহমদ খানের সহযোগীতায় এবং নির্দেশনায় আমরা সেই লক্ষেই কাজ করে যাচ্ছি।
