মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

কাবরেরার দিকে তাকিয়ে আছেন সৌরভদের মতো স্ট্রাইকাররা

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:১৫

ফুটবলার সৌরভ দেওয়ান খুলনা মোহামেডানে খেলে ১০ গোল করেছেন, সঙ্গে আছে দুইটা হ্যাটট্রিক, চট্টগ্রাম মোহামেডানে জার্সি গায়ে দুই ম্যাচ খেলেছেন, এক ম্যাচে চার গোল করেছিলেন তিনি। এই ফুটবলার ব্যাংকারদের নিয়ে আয়োজিত টুর্নামেন্টে ১০ গোল করেছেন। গত মৌসুমে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ওয়ারী ক্লাবের জার্সি গায়ে আট গোলে করেছেন। পরের মৌসুমে ওয়ান্ডারার্সের জার্সি গায়ে ১৪ গোল করেছেন, সঙ্গে হ্যাটট্রিক। কিন্তু তার গোল নিয়ে কোথাও আলোচনা হয়নি। এখন আছেন ঢাকার দল মোহামেডানে। 

মঙ্গলবার ফেডারেশন কাপে ব্রাদার্সের বিপক্ষে মোহামেডান ২-১ গোলে জিতেছে। একটি গোল সৌরভের। এই একটি গোলই তাকে খানিকটা আলোচনায় এনেছে বলে মনে করছেন সৌরভ। স্বপ্ন দেখেন জাতীয় দলে খেলবেন। সামনে কিংসের বিপক্ষে লিগের ম্যাচ। তাই ব্রাদার্সের বিপক্ষে মোহামেডানের নিয়মিত একাদশের পাঁচ ফুটবলার ছিলেন না। বেঞ্চের পাঁচ ফুটবলারকে জায়গা দেওয়া হয় একাদশে। বদলি নেমে সেই সুযোগটা কাজে লাগান সৌরভ, গোল করেন।

চোখের আড়ালে থাকা সৌরভদের মতো স্ট্রাইকারদের কথা কে বলবে। একদিকে যেমন নিয়মিত মাঠে নামার সুযোগ নেই, অন্যদিকে ক্লাব অনুশীলন দেখারও সুযোগ পান না বিদেশি কোচরা। তাহলে নতুন স্ট্রাইকারদের সন্ধান কীভাবে পাবেন জাতীয় দলের কোচ। মোহামেডানের ফুটবল ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব এবং আলফাজ আহমেদ জানালেন, সৌরভ ভালো স্ট্রাইকার। স্কোরিং এলিবিট আছে। কিন্তু সমস্যা হলো এখানে সুলায়মান দিয়াবাতেসহ আরও একাধিক স্ট্রাইকার রয়েছেন। অভিজ্ঞদেরকে বাদ দেব কীভাবে। জাতীয় দলে যেহেতু দেশি স্ট্রাইকার সংকট সৌরভদেরকে কাজে লাগাতে পারেন কোচ।’

প্রিমিয়ার লিগের সব দলেই আক্রমণভাগে বিদেশি স্ট্রাইকার। দেশি স্ট্রাইকাররা অবহেলায় পড়ে থাকেন। বেঞ্চে বসে সময় কাটাতে হয়। জাতীয় দলের খেলা হলে বেঞ্চে থাকা স্ট্রাইকাররা গা গরম করেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে গিয়ে গোল খরায় ভুগতে হয় জাতীয় দলকে। মোহামেডানের আলফাজ, নকিব মনে করেন, এর জন্য দায়ী বিদেশি খেলোয়াড় কোটা। ছয় জন ফুটবলার রেজিস্ট্রেশন করা যায়, পাঁচ জন খেলেন। এশিয়ান একজন বাধ্যতামূলক। এই কোটায় কম বেশি সবাই স্ট্রাইকার আমদানি করে।

 নকিব এবং আলফাজ তাদের ক্যারিয়ারে স্ট্রাইকার ছিলেন তারা। স্ট্রাইকার সংকট নিয়ে তাদেরও মাথাব্যথা রয়েছে। কিন্তু বাফুফে কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফুটবলাররা দাবি করেছিল কোটা কমানোর। সেটা বাড়িয়েছিল বাফুফে। আলফাজ-নকিব বলছেন, বিদেশি কোটা কমাতে হবে। তা না হলে জাতীয় দলের স্ট্রাইকার সংকট কমবে না। নকিব-আলফাজ বলছেন, বিদেশি কোটা তিন জন করলেই যথেষ্ট। আমাদের ফুটবল ক্যারিয়ারেও বিদেশি কোটা ছিল তিন জন। দুই জনের কোটা করলে একজন দেশি স্ট্রাইকারকে খেলানো যায়। 

আলফাজ বললেন, ‘আমাদের সময় বিদেশি কোটা ছিল। বিদেশি স্ট্রাইকারও এসেছিল, তারপরও আমরা একাদশে খেলেছি। কারণ সংখ্যাটা কম ছিল। এখন কোটা বেড়ে যাওয়ায় সবাই আক্রমণভাগের ফুটবলার আনছে।’ নকিবও একই কথা বললেন, ‘দুই জন করুক আর তিন জন করুক। সংখ্যাটা এরই মধ্যে থাকা উচিত। তাহলে দেশি স্ট্রাইকার বিদেশিদের পাশে খেলতে পারবে। দক্ষতা হবে, খেলার মধ্যে থাকবে। জাতীয় দলকে হাপিত্যেশ করতে হবে না।’

মোহামেডানের রিজার্ভ বেঞ্চের স্ট্রাইকার সৌরভ। গতকাল দুপুরে ক্লাব টেন্টে গিয়ে দেখা গেল, সৌরভ ঘুমাচ্ছেন। স্বপ্নের কথা শোনালেন, জাতীয় দলে খেলতে চান। টাঙ্গাইলে পোড়াবাড়ির বিখ্যাত চমচম মিষ্টি যেখানে পাওয়া যায়, সদরেই সৌরভের বাড়ি। মা পাপিয়া বেগম সংসার দেখাশোনা করেন, বাবা মশিউর রহমান অসুস্থ হয়ে বাড়িতে রয়েছেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সৌরভ। ফুটবল খেলে সংসার চালান। বিকল্প আয় নেই। ব্যাংকে চাকরির আমন্ত্রণ পেয়েও যাননি, শুধু ফুটবলার হতে চান, ফুটবল খেলতে চান। জাতীয় দলের খেলোয়াড় হবার স্বপ্ন নিয়ে পরিশ্রম করছেন। 

কিন্তু চাইলেও ক্লাব ফুটবলে মোহামেডান তাকে একাদশে সুযোগ দিতে পারছে না, অন্যদিকে জাতীয় দলের বিদেশি কোচরা এধরনের স্ট্রাইকারদের খুঁজে কাজে লাগানো যায় কি না, সে চেষ্টাও করেন না। দুই দিকেই সমস্যা। ‘এত গোল করেছি কিন্তু আলোচনা হয় নাই। প্রিমিয়ার লিগে রেগুলার ম্যাচ না খেললে আলোচনা হয় না। জাতীয় দলের কোচরা প্রিমিয়ার লিগের বাইরে খেলা দেখেন না। সুলায়মান দিয়বাতে, মোজাফফররা রয়েছেন। তাদেরকে বাদ দিয়ে আমাকে নামাবে না—বললেন সৌরভ। আফসোস নেই সৌরভের, ‘দেখি, আল্লাহ ভাগ্যে রাখলে জাতীয় দলে খেলব।’ ভাগ্যের ওপর নিজেকে ছেড়ে দিয়েছেন এমন অনেক ফুটবলার। প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তারা জাতীয় দলের কোচদের চোখে পড়ছেন না। কর্মকর্তারাও চোখ মেলে দেখেন না। তাই হয়তো সৌরভের মতো স্ট্রাইকাররা নিজেকে ভাগ্যের কাছে ছেড়ে দিচ্ছেন। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন