অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনির পাথর উত্তোলন। খনির ইয়ার্ডে পাথর রাখার জায়গা না থাকায় খনির উত্পাদন ঠিকাদার জিটিসি উত্পাদন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে গত বুধবার সন্ধ্যায় নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খনি উত্পাদন বন্ধ থাকবে। সেইসঙ্গে খনিতে কর্মরত প্রায় ৭০০ শ্রমিক-কর্মচারীকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবু দাউদ মো. ফরিদুজ্জামান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
খনি সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপাড়া পাথর খনিতে প্রতিমাসে উৎপাদন বাড়লেও পাথর বিক্রিতে গতি নেই। মাসে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পাথর উৎপাদনের বিপরীতে বিক্রি হয় ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন পাথর। এতে খনি ইয়ার্ডে বর্তমানে বিভিন্ন আকারের প্রায় ১০ লাখ টন পাথরের বিশাল মজুত গড়ে উঠেছে। বর্তমানে খনির ইয়ার্ডে পাথর রাখার কেনো জায়গা নেই। পাথর রাখার জায়গা না থাকায় পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খনি সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, দেশের একমাত্র পাথরখনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদন শুরু করে ২০০৭ সালের ২৫ মে। প্রথম অবস্থায় খনি থেকে দৈনিক ১ হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টন পাথর উত্তোলন হলেও পরে তা নেমে আসে মাত্র ৫০০ টনে। উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় শতকোটি টাকার ওপরে। এমন অবস্থায় উৎপাদন বাড়াতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৯২ লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের বিপরীতে ১৭১.৮৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় বেলারুশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসিকে।
জিটিসি সূত্রে জানা যায়, তারা দায়িত্ব পাওয়ার পর খনিতে তিন শিফটে কাজ শুরু হয়। বর্তমানে খনিটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন পাথর উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন। প্রায়ই লক্ষ্যমাত্রার বেশি উৎপাদিত হয়।
