জীর্ণ ছাউনির নিচেই কাটছে জরিনার তিন দশক

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫:২২

৩০ বছর জীর্ণ ছাউনির নিচে বসবাস করে আসছেন জরিনা বেগম (৬৩)। সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর পেতে বছরের পর বছর ঘুরেছেন। কিন্তু পাননি সরকারি আবাসের সুখ। ভাগ্যাহত হয়ে বাক্-প্রতিবন্ধী স্বামী ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে ৩০ বছর ধরে এভাবে বসবাস করছেন জরিনা।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরের যাদুরানি বাজারের কুমার পুকুর এলাকায় সড়কের পাশে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানেই জরিনাকে বাসস্থান সংকট মেটানোর দাবি করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটা মারা যাওয়ার পরে অসহায় হয়ে গেছি, ছেলেটা পাগল আর স্বামী শয্যাশায়ী (বাক্-প্রতিবন্ধী)। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। আমার একটা ঘর দরকার।’

বাক্-প্রতিবন্ধী স্বামী ও মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে নিয়ে ৩০ বছর জীর্ণ ছাউনিতে সংসার করছেন জরিনা। ছবি: ইত্তেফাক

এদিকে গত বছর ৯ আগস্ট ঠাকুরগাঁওকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জেলার হরিপুরকে ভূমিহীন ও গৃহহীন ঘোষণা করা হয়েছে তারও এক বছর আগে ২০২২ সালের মার্চে। এখন পর্যন্ত জেলার ৫ উপজেলায় সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পেয়েছে ৮ হাজার ১৮৭ জন। এর মধ্যে হরিপুরে ১ হাজার ৩১৬ জনকে তৃতীয় ধাপে ঘর দেওয়া হয়েছে।

জীর্ণ ছাউনির ঘরে জরিনার ৩০ বছরের সংসার। ছবি: ইত্তেফাক

হরিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান মুকুল বলেন, ‘এখন তার (জরিনার) কোনো ঘর নেই। সরকার যদি আবার এসব কাজ শুরু করে তাহলে আমি তার বাসস্থান সংকট পূরণের চেষ্টা করবো।’

হরিপুরের অতিরিক্ত ইউএনও রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওকে ভূমিহীন ও গৃহহীন ঘোষণা করা হলেও যদি কোনো ব্যক্তি দুর্যোগ বা অসহায়ত্বের কারণে ঘরের জন্য আবেদন করেন তাহলে চাহিদা দেওয়ার পর পরই তাকে ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে এসে যোগাযোগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি জরিনাকে।’

ইত্তেফাক/এইচএ