বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

দ্বিতীয় দিনেই বইমেলায় পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় 

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২১:২৮

অমর একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিনেই পাঠক-দর্শনার্থীসহ বইপ্রেমীদের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ। শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) ছুটির দিন হওয়ায় বেলা গড়ানোর আগেই মেলা প্রাঙ্গণ রূপ নেয় জনসমুদ্রে।   

এদিন বইমেলার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশ ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে দর্শনার্থীরা আসতে থাকেন মেলা প্রাঙ্গণে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়ও। বিকাল ও সন্ধ্যায় ক্রমেই বইপ্রেমীদের ভিড়ে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। 

তাছাড়া প্রথম শিশুপ্রহর ছিল আজ। তাই সকাল থেকেই শিশু-কিশোরদের ভিড় দেখা যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। কেউবা বাবা-মায়ের হাত ধরে, আবার কেউবা শিক্ষকদের সঙ্গে আসে মেলায়। 

শিশুপ্রহরে শিশু-কিশোরদের বাড়তি আনন্দ দিতে রয়েছে সিসিমপুর স্টল। যেখানে বাচ্চাদের জন্য আকর্ষণীয় সব মজার মজার বই সাজানো রয়েছে। একইসঙ্গে শিশু চত্বরে সিসিমপুরের প্রিয় চরিত্রগুলোর সঙ্গে দেখা হওয়ায় ছোট্টমনিরা ছিল দারুণ খুশি।  

বই হাতে এক পাঠক | ছবি: সংগৃহীত

প্রকাশনা সংস্থা ইউপিএলের সহকারী ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান বলেন, ‌‘সাধারণত বইমেলা গুছিয়ে উঠতে প্রথম দুই-তিনদিন চলে যায়। কিন্তু এবার মেলার দ্বিতীয় দিনই শুক্রবার হওয়ায় প্রথম থেকেই লোক সমাগম হচ্ছে।’ 

মাছরাঙ্গা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী ইসমিতা আলম বলেন, গতকালের থেকে আজকে ভিড় বেশি। কেউ কেউ বই কিনছেন। কেউ আবার দেখছেন। সবাই তো বই কিনতে আসে না, অনেকে দেখতে আসছে। সামনে বিক্রি আরও বাড়বে মনে হয়।   

দর্শনার্থীরা বলছেন, মানুষের সুবিধার্থে বইমেলা চলাকালীন সময়ে অন্তত শুক্রবার দিন মেট্রোরেল দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত চালু রাখা হোক। এতে করে যাতায়াতে সুবিধা পাবেন সবাই। দূর-দূরান্ত থেকে আসতে যথেষ্ট ভোগান্তি পোহাতে হয়। কিন্তু ছুটির দিনগুলোতে মেট্রোরেল চালু রাখলে সহজেই বইমেলায় আসা যাবে।

মেলায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, সবসময়ই মেলা শুরুর দিকেই আসা হয়। কেননা যত সময় যায়, ততই বেশি ভিড় হয়। তাই আজই চলে এলাম। 

বইমেলায় শিশুরা | ছবি: সংগৃহীত

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, দ্বিতীয় দিন মেলায় নতুন বই এসেছে ৩১টি। এর মধ্যে রচনাবলী এসেছে ১টি, প্রবন্ধ এসেছে ৩টি, ইতিহাস সম্পর্কিত বই এসেছে ১টি, জীবনী গ্রন্থ এসেছে ২টি, উপন্যাস এসেছে ১০টি, শিশুতোষ গল্প এসেছে ১টি, কবিতার বই এসেছে ৮টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই এসেছে ১টি, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক বই এসেছে ১টি, ইতিহাস-ঐতিহ্যবিষয়ক ১টি, মহাকাশবিষয়ক বই এসেছে ১টি এবং গল্পের বই এসেছে ১টি। 

বইমেলায় দায়িত্বে থাকা নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক অর্পিত হালদার ঠাকুর বলেন, মেলায় যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য রয়েছে। মেলার নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি নেই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। 

আগামীকালের মেলার সময়সূচি ও কার্যক্রম
আগামীকাল শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে বইমেলার ৩য় দিন। মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর।

এরপর বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘দ্বিশতজন্মবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি: মাইকেল মধুসূদন দত্ত’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রফিকউল্লাহ খান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন খসরু পারভেজ ও হোসনে আরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মুহম্মদ নূরুল হুদা।  

ইত্তেফাক/ডিডি