মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

চলতি বছরেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রথম ইউনিট চালু হচ্ছে

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:০০

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চলতি বছরের শেষ নাগাদই চালু হবে। পরের বছর ২০২৫ সালের মধ্যেই চালু হবে দ্বিতীয় ইউনিট। অর্থাত্ পরবর্তী বছরেই দুটি ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলছে, পারমাণবিক জ্বালানি আমদানির পর এখন কমিশনিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে দেশের মেগা এই পাওয়ার প্ল্যান্টটি। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাতা দেশ রাশিয়াও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে প্রকল্পটি বুঝিয়ে দিতে পূর্ণ নিশ্চয়তা দিয়েছে।

পরমাণু বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর স্বল্পতম সময়ের মধ্যে জটিল ও দেশের প্রথম পারমাণবিক প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে, যা সক্ষমতার নতুন ধাপে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রকল্প এলাকায় ইতিমধ্যেই জ্বালানি চলে এসেছে। কেউ কেউ মনে করেন জ্বালানি আসা মানে সহসাই বিদ্যুৎ উৎপাদনন করা যাবে। আসলে বিষয়টি সে রকম নয়। এখন রি-কমিশনিং স্টেজ চলছে। এর মধ্য দিয়ে আরো তিনটি ধাপ শেষ করলে আমরা বণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদননে যেতে সক্ষম হব। এর সঙ্গে গ্রিড ও অন্যান্য বিষয়গুলোর কাজ যদি সঠিকভাবে চলতে থাকে, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ট্রায়াল বা পাইলট কমার্শিয়াল অপারেশনে যেতে সক্ষম হবে। আর এটা হলে টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্টের বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক হবে।

চতুর্থ বারের মতো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। তিনি বলেন, কাজ চলছে সূচিমাফিক। ২০২৫ সালেই পরমাণু বিদ্যুৎ পাবে দেশ। এই ধরনের টেকনোলজি নিয়ে ইলেকট্রিসিটি তৈরি করা, যেটা প্রতিদিনই আমাদের লাগবে, সেটা বেশ কঠিন এবং অনেক বড় কাজ। আর এগুলো গালগপ্পো করার জিনিস নয়। ফুয়েল চলে আসা মানেই আমাদের দেশ এখন অনেক উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। আমরা এখন বিশ্বের ৩৩তম পরমাণু শক্তিসম্পন্ন দেশ। চলতি বছর ২০২৪ সালে প্রথম ইউনিট এবং ২০২৫ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শেষ হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুটি ইউনিটে স্থাপিত হচ্ছে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর ১২০০ রিয়্যাক্টর। প্রকল্পটির মোট উৎপাদনন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এই রিয়্যাক্টরগুলো সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করতে সক্ষম।

ইত্তেফাক/এএইচপি