বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সুন্দরবনের রাজস্ব গেল বেসরকারি খাতে, পর্যটক কমার শঙ্কা

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫:০৪

৩৩ শর্তে সুন্দরবনের পর্যটন স্পট ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছে বন বিভাগ। ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে পর্যটকদের প্রবেশ ফি ও রাজস্ব আদায় করবে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। 

তবে ভ্রমণ-ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা বলছে, বন বিভাগের এ পদক্ষেপে রাজস্ব আদায় বাড়লেও পর্যটকদের সঙ্গে ইজারাদারের আচরণে ভবিষ্যতে দর্শনার্থীদের আগমন কমার শঙ্কা রয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। প্রকৃতির অপরূপ সেই নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ভ্রমণের মৌসুমে সুন্দরবনের করমজল, হারবাড়িয়া, আন্দারমানিক, দুবলা, কটকা, কচিখালী, নীলকমলসহ সমুদ্র তীরবর্তী বনাঞ্চলের ৭টি গন্তব্যে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে এক মিলন মেলায় পরিণত হয়। বনের দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা ও বন্যপ্রাণী দেখতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে হয় সুন্দরবনে। ওই স্থানগুলোতে শুরু থেকেই প্রবেশ ফি ও অন্যান্য রাজস্ব আদায় করে আসছিল দায়িত্বরত বনরক্ষীরা। কিন্তু, বন বিভাগের এক সিদ্ধান্তে  ভ্যাট ও আইটি বাদে মোট ৩০ লক্ষ টাকা রাজস্ব নির্ধারণ পূর্বক গত বছরের ১৮ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে `মেসার্স ইমন মেডিকেল হল অ্যান্ড ঠিকাদার' নামক প্রতিষ্ঠানকে বন্যপ্রাণী ও মৎস্য প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে ৩ মাস পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখা, বন্যপ্রাণীদের কোনো খাবার না দেওয়া, শব্দ দূষণ না করা, বনের মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলাসহ আনুষঙ্গিক ৩৩টি শর্তে ১১ নভেম্বর ইজারাদার প্রদান করা। ১ জানুয়ারি থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি করমজল ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র থেকে রাজস্ব আদায় শুরু করে।

রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ায় রাজস্ব বৃদ্ধি পেলেও পর্যটকদের আগমন হ্রাস পেতে পারে। ফলে এই এলাকার  চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।  

ইজারাদার পক্ষের প্রতিনিধি জি এম রফিকুল হাসান বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান ৩০ লক্ষ টাকায় ইজারা নিয়েছি। এর সঙ্গে ভ্যাট ও আইটি রয়েছে, তাতে প্রায় আরও ৫ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া এ কাজে ১২ জন কর্মচারী কাজ করছে, তাদের জন্য প্রতি মাসে বেতন ও অন্যান্য খাতে ২ লাখ টাকা খরচ হবে। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা কম। তার পরেও আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পরিপূর্ণ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা এবং বন বিভাগ মিলে মিশে কাজ করতে পারলে একটি ভালো সুফল আসবে বলেও জানান তিনি। 

খুলনা জোনের টুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার বলেন, পর্যটকদের আগমন বাড়াতে এবং তাদের নিরাপত্তায় কাজ করছে টুরিস্ট পুলিশের পৃথক টিম। 

২০২৩ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটক কম হওয়ার পরেও করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ও পর্যটক স্পট থেকে প্রায় ২৪ লাখ ১১ হাজার ৫৭৩ টাকা রাজস্ব আয় করেছিল বন বিভাগ। 

ইত্তেফাক/এসএআর/পিও

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন