বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

টিসিবির পণ্য লুটছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর 

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বঞ্চিত দরিদ্র মানুষ

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩০

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নাসিক ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে টিসিবি পণ্য কেলেঙ্কারির অভিযোগ পাওয়া গেছে।  ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে তার ছেলে ও ভাইয়েরা মিলে কার্ডধারী গ্রাহকদের পণ্য না দিয়ে তারা নিজেদের গুদামে নিয়ে মজুত করেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। 

প্রতি মাসে দুই বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দারিদ্র্যমোচন কর্মসূচির আওতায় অল্প আয়ের মানুষদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে খাদ্য সহায়তা টিসিবি পণ্য বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে সারা দেশের পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনগুলোতে। এর অংশ হিসেবে নাসিক ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৩ হাজার কার্ডধারী গ্রাহক রয়েছে। প্রতিবার ৪০০ কার্ডের পণ্য গ্রাহকদের না দিয়ে তার নিজস্ব গুদামে নিয়ে আত্মসাৎ করেন বলে স্থানীয়রা জানান। দীর্ঘদিন এভাবে কাউন্সিলর সিরাজের ছেলে ফরহাদ, তামিম ও তার ভাই শহীদ ৪০০ কার্ডের পণ্য গুদামে সরিয়ে নিয়ে রাতে অন্যত্র বিক্রি করেন। স্থানীয়রা কার্ডের পণ্য চাইলে তাদের বিভিন্ন হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গ্রাহকদের নিরুপায় হয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত বছর পুরো এক গাড়ি পণ্য গ্রাহকদের না দিয়ে টিসিবি ডিলারকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে তাদের গুদামে নামিয়ে রাখে। এ বিষয়টি টিসিবি ডিলার জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২৭ জানুয়ারি ও গত ৩১ জানুয়ারি টিসিবির পণ্য নিয়ে গাড়ি তার বাড়ির সামনে পুকুর পাড়ে রেখে তার ছেলে ফরহাদ, তামিম তাদের সঙ্গীদের নিয়ে প্রায় ৪০০ শত কার্ডের পণ্য পাচার করে নিয়ে যায়। গাড়ির ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা টিসিবি ডিলার ইসমাইলের সামনেই প্রতিবারই ৪০০ টিসিবির পণ্য গায়েব হয়ে যায়। কিন্তু ডিলার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না।

গত ৩১ জানুয়ারি পণ্য পাচারের সময় সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সোনিয়া সাউদ বাধা দিলে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ব্যাপারে নির্যাতনের শিকার টিসিবি ডিলার মাসদ আলী বলেন, ‘আমি একবার নাসিক ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে টিসিবি পণ্য বিক্রির ডিও পাই। মাল নিয়ে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে গেলে কাউন্সিলর সিরাজ ও তার ছেলেরা গ্রাহকদের মাল না দিয়ে তাদের তুলার গুদামে তা নামাতে চাইল আমি বাধা দিলে  তারা আমাকে মারধর করে। তারা সব পণ্য  তাদের গুদামে রেখে আমাকে তাড়িয়ে দেয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।’ 

এ ব্যাপারে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সোনিয়া সাউদ বলেন, ‘ঘটনা সত্য, আমি বিষয়টি ডিসিকে জানিয়েছি। ডিসি লোক পাঠালেও তার আগেই তারা মাল সরিয়ে নিয়ে গেছে।’ 

এ ব্যাপারে ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ অভিযোগ মিথ্যা। মহিলা কাউন্সিলর কিছু নতুন কার্ড দিয়েছেন সে সকল কার্ড আমি আটক করায় আমার বিরুদ্ধে কুৎসা  রটাচ্ছে। ’এদিকে টিসিবির পণ্য সঠিকভাবে পাওয়ার জন্য মেয়র ও জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিতরা।

ইত্তেফাক/এমএএম