বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

কাজী সালাহউদ্দিন প্রসঙ্গে পাপন

‘ওনার মতো কিংবদন্তি ফুটবলার বাংলাদেশে নেই’

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:১৫

বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের বাসা রাজধানীর বারিধারায়। কিছুদিন আগে ওপেনহার্ট সার্জারির পর বাসায় অবস্থান করছেন তিনি। নাজমুল হাসান পাপন ক্রীড়া মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবসে জানিয়েছেন, তিনি সালাহউদ্দিনকে দেখতে যাবেন। সোমবার দিনক্ষণ নির্ধারণ হয় মঙ্গলবার যাবেন, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভা থেকে ফিরে পুনরায় গতকাল বেলা ১২টায় সালাহউদ্দিনের বাসার গেটে গিয়ে পাপনের চোখ চড়কগাছ।

পাপন আসার ঘণ্টাখানেক আগেই সালাহউদ্দিনের বাসার গেটের সামনে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি আশপাশের বাড়ির মানুষ জেনে গেছে। ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন ও সালাহউদ্দিন হাসিমুখে শুভেচ্ছা বিনিময় গেটের বাইরে থেকে দেখতে হয়েছে সংবাদমাধ্যমকে। ভেতরে প্রায় আধঘণ্টা অবস্থান করেন ক্রীড়ামন্ত্রী। পাপনকে বিদায় দেন সালাহউদ্দিন।

গেটের সামনে অপেক্ষায় থাকা সংবাদমাধ্যম, কী কথা হলো সালাহউদ্দিন-পাপনের মধ্যে। প্রশ্ন শুনেই ক্রীড়ামন্ত্রীর চোখেমুখে হাসির ঝিলিক। ‘আসলে আমি তো ডাক্তার না, দেখে মনে হচ্ছে আল্লাহর রহমতে উনি এখন খুব ভালো আছেন। অনেক সুস্থ আছেন। আমি প্রথমেই দেখে বললাম, হাঁটাচলা করছেন স্বচ্ছন্দে। সেটাই ভালো লেগেছে দেখতে। তবে এত বড় সার্জারির পর রিহ্যাবের দরকার আছে। আরো কিছু দিন উনাকে রিহ্যাব করতে হবে। তারপর আমার মনে হয় তাকে আবার আগের মতো সব জায়গাতে দেখা যাবে—বললেন পাপন।

সালাহউদ্দিন পাপন সম্পর্কে খোঁচা মারা প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়ে পাপন বলেন, ‘এত বছরের সম্পর্ক ঐ এক দিনের কথায় তো আর নষ্ট হয় না। অনেক সময় অনেক কথায় কষ্ট উনিও পেতে পারেন, আমিও পেতে পারি। সেটা ওখানেই শেষ। সম্পর্ক তো শেষ হয়নি। ছোটবেলা থেকে মাঠেই যেতাম উনার খেলা দেখতে। এটা তো অস্বীকার করার কোনো পথ নেই। উনার মতো কিংবদন্তি ফুটবলার বাংলাদেশে আর নেই।’

সালাহউদ্দিন অসুস্থ, তার বাসায় পাপন গেলেন খোঁজ নিতে। পাপনকে পেয়ে সালাহউদ্দিন ফুটবল উন্নয়নে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে পাশে চেয়েছেন। বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন পাপন। তিনি বলেন, ‘আসলে ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আমি ইতিমধ্যে আলোচনায় বসেছিলাম। উনাদের প্রধান ইস্যুগুলো আমি শুনেছি। আজকে যেহেতু সালাহউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসলাম, উনিও কয়েকটা সমস্যার কথা বলেছেন। উনাদের সমস্যার কথাগুলো শুনেছি। আমি বলেছি, ঠিক আছে আপনি একবারে সুস্থ হয়ে আসেন। আমি কিছু কাগজপত্র চেয়েছি। সালাহউদ্দিন ভাইকে বলেছি, এর মধ্যে যদি পারেন তাহলে কিছু কাগজপত্র পাঠান। এগুলো দেখে পরবর্তীতে কী করা যায়, আমরা দেখব।’

পাপনের কাছে সালাহউদ্দিন কী সমস্যার কথা বলেছেন?  ‘ওনাদের বড় সমস্যার মধ্যে একটা হচ্ছে খেলার মাঠ নেই। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামটা লম্বা সময় ধরে বন্ধ হয়ে আছে, খেলার কোনো জায়গা নেই। এটা বড় সমস্যা, অস্বীকারের পথ নেই। আমি বলেছি, পরশুদিন (আগামীকাল) বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম দেখতে যাচ্ছি। আর যাতে ফারদার দেরি না হয়, কাজ যাতে তাড়াতাড়ি শেষ করা যায়, এখন যে নতুন শিডিউলটা দিয়েছেন সেটার জন্য আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব। ওনাদের খেলার কোনো জায়গা বের করা যায় কি না, সেটা অবশ্যই আমি দেখব।’

এত ফেডারেশন কোন খেলা অগ্রাধিকার পাবে? পাপনের পরিষ্কার জবাব, ‘মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার আগে অবশ্যই ফুটবল আসবে। এর চেয়ে জনপ্রিয় খেলা তো আর নেই। স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলটা সবার আগে আসবে। প্রথম চেষ্টাই করতে হবে ফুটবলটাকে নিয়ে কিছু করা যায় কি না। আমি বলছি না, সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু চেষ্টা তো করতে হবে। আমার ইচ্ছাটাই এটা যে, চেষ্টা করে দেখি। আমাদের যদি মনে হয়, ওনাদের কথাগুলো যৌক্তিক এবং আমাদের পক্ষে করা সম্ভব, সেগুলোই করার অঙ্গীকার করব। একটা কিছু প্রতিজ্ঞা করে যদি পূরণ করতে না পারি, বলে লাভ কী।’ নারী ফুটবল নিয়ে পাপন বলেন, ‘এই যে মেয়েরা এত ভালো খেলছে ফুটবলে, এটাও তো বড় ব্যাপার। আমি নিশ্চিত, কোথাও যদি বলি মেয়েদেরকে স্পন্সর করার জন্য, কোনো অভাব হবে না।’

ইত্তেফাক/এএম