বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

‘সরকার অবৈধ সুবিধা দিয়ে ভারত, চীন ও রাশিয়ার সমর্থন আদায় করেছে’

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:০২

সরকার নিজ অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ভারত, চীন ও রাশিয়ার সমর্থন আদায় করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। ৭ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার নিজ অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে, অবৈধ অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সুবিধা দিয়ে ভারত, চীন ও রাশিয়ার সমর্থন আদায় করেছে। বিশেষ করে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, অসম দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নামমাত্র মূল্যে ট্রানজিট–সুবিধা, পানি সমস্যার সমাধানহীনতা, গোপন আমদানি চুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী অজস্র প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে।

তিনি বলেন, যার প্রমাণস্বরূপ ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় ভারতই আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

বিএনপির এ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় সন্ত্রাস, রাষ্ট্রযন্ত্রের একাংশের ধ্বংসযজ্ঞ এবং বিতর্কিত দেশগুলোর হস্তক্ষেপ এই সমন্বিত অপশক্তিকে উপেক্ষা করে জনগণের সমর্থনকে উৎস হিসেবে ধারণ করে বিএনপি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিচল রয়েছে।

৭ জানুয়ারি যে ‘ডামি’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তা জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা বা আকাঙ্খার প্রতিফলন ছিল না বলে দাবি করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, বরং, নির্বাচনের নামে এটি ছিল জাতির সঙ্গে একটি সহিংস প্রতারণা, যার উদ্দেশ্য অবৈধভাবে, অনৈতিকভাবে ও অসাংবিধানিকভাবে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখা।

গয়েশ্বর বলেন, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় ডামি প্রার্থী, ডামি দল, ডামি ভোটার ও ডামি পর্যবেক্ষকদের সমন্বয়ে মঞ্চস্থ হয়েছে ২০২৪ সালের ‘ডামি’ নির্বাচন। 

আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুধু গণবিরোধীই নয়, এটি পরিপূর্ণভাবে ব্যর্থ ও অন্তঃসারশূন্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে গণবিদ্বেষী সরকার যে দুর্নীতি-দুঃশাসন ও দমন-দুর্বৃত্তায়ন চালিয়েছে, সমাজের প্রতিটি শ্রেণী ও পেশার মানুষ তাতে বৈষম্য, অবিচার ও নিপীড়ণের শিকার হয়েছেন। 

ইত্তেফাক/এবি