ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মাদ্রাসা দপ্তরির জেরা শেষ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৯, ২১:৪০

বুধবার ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাযিল মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মাদ্রাসার দপ্তরির জেরা শেষ হয়েছে। 

মঙ্গলবার ৩য় স্বাক্ষী নাসরিন সুলতানা ফুর্তির জেরা শেষে বিচারক মামুনুর রশিদ ৪: ৩০ থেকে ৫ টা পর্যন্ত ৪র্থ স্বাক্ষী দপ্তরি নুরুল আমিনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর বুধবার আসামি পক্ষের জেরা করার তারিখের আদেশ দেন। বুধবার ৫ম কর্ম দিবসে ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে এই হত্যা মামলায় ৪র্থ স্বাক্ষীকে আসামি পক্ষের ১৬ জন আইনজীবী বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ২:৪৫ মিনিট পর্যন্ত এক এক করে জেরা করেন।

জেরা শেষে আদালতের বিচারক বৃহস্পতিবার ৬ষ্ঠ কর্ম দিবসে মাদ্রাসার অপর স্বাক্ষী নৈশ প্রহরী মোহাম্মদ মোস্তফার জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণের ধার্য্য তারিখের আদেশ দিয়ে আদালতের বিচারকার্য মূলতবি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ জানান, এই হত্যা মামলাটির ৯২ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে ১৮০ কার্য দিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে। 

এ সময় আদালতে চার্জশীটভূক্ত ১৬ আসামির সকলে উপস্থিত ছিলেন। আসামিরা হচ্ছেন, অধ্যক্ষ এস.এম সিরাজ-উদ-দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মোঃ শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আবদুল কাদের ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নুসরাতের মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে নুসরাত জাহান রাফি মারা যান। 

আরও পড়ুন: মাগুরায় চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

ইত্তেফাক/নূহু