রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ

নিরাপদ পানি ও খাবার চান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২২:১২

নিরাপদ পানি ও খাবারের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের আমতলা চত্বর থেকে শুরু বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা ‘ছাত্র মারা প্রশাসন চাই না, চাই না’, ‘জন্ডিসে ছাত্র মরে প্রশাসন কী করে’, ‘জন্ডিসের খাবার আর না, আর না’ ইত্যাতি স্লোগান দেয়।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাকিল হোসেন বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্রমাগত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন সংস্কার করা হয়, কিন্তু ক্যাম্পাসে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষকদের জন্য এসি বাসের ব্যবস্থা করা হয়, অথচ শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।

নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মেহেদী হাসান বলেন, ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনগুলোতে বিশুদ্ধ পানির স্বল্পতা আছে। ভ্রাম্যমাণ খাবার দোকানেও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করা হয়। এসব খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা জন্ডিসে আক্রান্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। প্রশাসন দ্রুতসময়ে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না করলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সদস্য শামীম ত্রিপুরা বলেন, ক্যাম্পাসে দুর্নীতির কারণে নির্মাণাধীন ভবন ধসে পড়ছে ও জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থী মারা যাচ্ছে। তবু প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে কোনো চিন্তা করছে না। বরং তারা সরকারের আনুগত্য প্রকাশ করতে ব্যস্ত রয়েছে।

রাবি চিকিৎসাকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত তিন সপ্তাহে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২৪ শিক্ষার্থী জন্ডিস পরীক্ষা করেছেন। তাদের মধ্যে ১৩১ জন শিক্ষার্থীর জন্ডিস শনাক্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুরাদ আহমেদ মৃধা। বিষয়টি নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহমেদ জানান, জন্ডিসের কারণে মুরাদ প্রথমে লিভার ওয়ার্ডে ভর্তি হন। পরে কিডনিতে সমস্যা হলে তাকে কিডনি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ইত্তেফাক/এসকে