রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

রাবির পরিবহন মার্কেটে নিয়মিত চুরি, আতঙ্কে দোকানিরা

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:১৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সংলগ্ন মার্কেটটি পরিচিত 'পরিবহন মার্কেট' নামে। সম্প্রতি এখানে নিয়মিত ঘটছে চুরির ঘটনা। এ নিয়ে দোকানিরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার পায়নি বলে অভিযোগ দোকান মালিকদের। তাই আতঙ্কে দিন কাটছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল দোকানিদের।

পরিবহন মার্কেটের একাধিক দোকানি জানান, ১ ফেব্রুয়ারি রাতে পরিবহন মার্কেটের 'হুমায়ুন টেলিকম' থেকে নগদ দেড় লক্ষ টাকা, মোবাইল রিচার্জ কার্ড ও রিচার্জের চারটি ফোন চুরি হয় এবং তার পাশের 'শাকিক কম্পিউটার-২' থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা চুরি হয়।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি রাতে 'ওঙ্কার' নামে একটি বইয়ের দোকানের সামনে থেকে ১টি বড় লোহার টেবিল এবং চা বিক্রেতা এনামুল হক'র দোকান থেকে কয়েকটি বেঞ্চ চুরি হয়। ১৭ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয় গিফট কর্নার 'সুন্দরবন কুরিয়ার' দোকানের টিন খুলে ভেতরে প্রবেশ করে আনুমানিক ৪ হাজার টাকাসহ কিছু মালামাল চুরি হয়। ১০ জানুয়ারি 'চারু আড্ডা' নামে একটি দোকান থেকে একটি টেবিল, এনামুলের চায়ের দোকান থেকে দুটি বেঞ্চ এবং বিশ্ববিদ্যালয় গিফট কর্নার থেকে একটি ছোট টেবিল চুরি হয়।

পরিবহন মার্কেটের 'হুমায়ুন টেলিকমের' মালিক হুমায়ুন কবির বলেন, রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাই। সকাল ১০টায় মুঠোফোনের মাধ্যমে জানতে পারি আমার দোকানের তালা লাগানোর হুক ও বালা সবকয়টি কাটা অবস্থায় আছে। খরব শুনে ছুটে এসে দেখি দোকানে রেখে যাওয়া প্রায় একলক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা, মোবাইল রিচার্জ কার্ড এবং রিচার্জে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল চুরি হয়েছে। দোকানে সিসি ক্যামেরা চেক করে দেখি রাত ১২ টার পরে আর কোন রেকর্ড নাই কারণ দোকানের বাইরে মিটার থেকে বিদ্যুৎ এর মেইন লাইন বন্ধ করে দিয়ে ছিল। 

 
এ বিষয়ে কথা হয় রাবি পরিবহন ও টিনসেট মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাহিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, এভাবে প্রতিনিয়ত চুরি হওয়াতে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। আমরা এবিষয়ে প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দিয়েছি এবং থানায় একটা সাধারণ ডায়েরি করেছি। আশা করছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খুব দ্রুতই অপরাধীদের শনাক্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করবে।   

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আসাবুল হক বলেন, ঘটনাটি জানার পরে আমরা পুলিশকে ইনফর্ম করি। এবং দোকান মালিকদের সাথে আমরা কথা বলেছি। তারা আমাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সেখানে নিরাপত্তা কর্মী রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি চুরির ঘটনার সাথে যারা জড়িত তারা যেন দ্রুতই শনাক্ত করা যায়।  

ইত্তেফাক/এআই