বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

কৃচ্ছ্রসাধনের প্রভাবে বাজেট বাস্তবায়ন কমেছে

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের প্রথম প্রান্তিকে ব্যয় ১০.৯৮ শতাংশ

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:০৬

বিগত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও কৃচ্ছ্র দিয়ে শুরু হয় ২০২৩-২৪ অর্থবছর। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় চলতি বাজেট বাস্তবায়নের শুরুতেই টাকা খরচের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর কয়েকটি বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। ফলে নেতিবাচক প্রভাবে চলতি বাজেট বাস্তবায়ন (প্রথম প্রান্তিকে) হার গত তিন বাজেটের একই সময়ের তুলনায় কমে গেছে। বাজেট বাস্তবায়ন হার নিয়ে অর্থ বিভাগের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মাত্র ৮৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এটি মোট বাজেটের মাত্র ১০ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আগের অর্থবছর (২০২২-২৩) প্রথম প্রান্তিকে বাজেটের ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়। ঐ হিসাবে চলতি বাজেটের বাস্তবায়ন হার গেল বাজেটের তুলনায় কম হয়েছে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। এছাড়া ২০২১-২২ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের একই সময়ে অর্থ ব্যয়ের হার ছিল ১১ শতাংশ।

অর্থ বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃচ্ছ্রসাধন করে কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় কমিয়েছে ইতিমধ্যে। এর প্রভাব এসে পড়তে পারে। আবার জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে উন্নয়ন খাতেও কম ব্যয় হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশেও কিছুটা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আছে। তা থাকা সত্ত্বেও রাজস্ব আদায়ের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত আছে। প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আয়, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ব্যয় এবং ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহসহ মৌলিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোর অবস্থান সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্যপণ্য এবং জ্বালানির জোগানে বাধাগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিম্ন প্রবৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি এখনো নানা ধরনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করছে। সব ধরনের বিরূপ প্রভাব সত্ত্বেও গত অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ অর্জন হয়। যেখানে ২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ এবং উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ শতাংশ।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা দেওয়া হয়। অর্থবছরের শুরুতেই সরকার ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছে। চলতি হিসাবের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে আমদানির ক্ষেত্রেও প্রবৃদ্ধি কমেছে বিগত অর্থবছরের তুলনায় ২৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বর্তমান বিলাসদ্রব্য পণ্য আমদানি পরিহার এবং মিতব্যয়ের কারণে এ খাতে খরচ হ্রাস পেয়েছে। বাজেটের অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় হয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে। কিন্তু এ বছর উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ে বড় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এক্ষেত্রে পড়েছে। প্রতিবেদনে দেখানো হয়, প্রথম প্রান্তিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) বাস্তবায়ন হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। সর্বশেষ তথ্য মতে, এডিপির বাস্তবায়ন হার জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশ। টাকার অঙ্কে ৬১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এ তথ্য জানায়। গত এক দশকের তুলনায় এ বাস্তবায়ন হার সবচেয়ে কম। রপ্তানি আয় সম্পর্কে অর্থ বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ধনাত্মক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। যা জানুয়ারি মাসে প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশে।

ইত্তেফাক/এসটিএম