বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২২:১৩

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার দাসিয়ারছড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ফুলবাড়ী থানার এসআই স্বপন কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় প্রভাবশালীরা ঘটনা ধামাচাপা দিতে কিশোরীর পরিবারকে থানায় যেতে বাধা দেওয়ায় ৩ দিন পর সোমবার (১২  ফেব্রুয়ারি) থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগীর অভিভাবক। তবে অভিযুক্ত কাউকেই সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী তার নানা বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ওই কিশোরী বাইসাইকেলযোগে ঔষধ কেনার জন্য পার্শ্ববর্তী টনকার মোড় বাজারে যায়। বাড়ি ফেরার পথে দাসিয়ারছড়া রাসমেলা গ্রামের সোহাগ (১৯), একই গ্রামের ময়নুল ইসলাম (২২) ও মিজানুর রহমান (২৩) জোরপূর্বক কিশোরীকে তুলে নিয়ে রাসমেলা নদীর পাড়ে যায়। সেখানে ময়নুল ও মিজানুরের পাহারায় সোহাগ কিশোরীকে ধর্ষণ করে।

পথচারীরা সড়কের পাশে বাইসাইকেল পড়ে থাকতে দেখে চালককে খুঁজতে গিয়ে নদীর পাড়ে অভিযুক্তদের দেখতে পায়। লোকজন দেখে অভিযুক্ত ৩ যুবক কিশোরীকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা কিশোরীকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এ সময় ভুক্তভোগীর পরিবার কিশোরীর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে ঘটনার ৩ দিনেও থানায় যেতে পারেনি কিশোরী ও তার পরিবার।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, এ ঘটনায় তারা ওই দিনই থানায় যেতে চাইলে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দিতে থাকে। খবর পেয়ে তার বাবা ঢাকা থেকে ফিরে সোমবার থানায় মামলা করেন। পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে।

জানা গেছে, থানায় যেতে বিলম্ব হওয়ার সুযোগে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে। তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। ধর্ষণের মতো অভিযোগে স্থানীয় কারা থানায় আসতে বারণ করেছে তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়ী থানার এসআই ইব্রাহিম বলেন, সোমবার সন্ধ্যার দিকে মামলার তদন্তভার পেয়েছি। আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/এবি