বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

বোর্ড মিটিংয়ে মন্ত্রী পাপনের ভিন্ন অনুভূতি

তামিমকে নিয়ে আবারও বসবেন সবাই 

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৭

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বে গতকাল সোমবার চলতি বছরের প্রথম বোর্ড সভায় বসেন বিসিবি কর্তারা। এদিন বেলা ১টা থেকে বিসিবি প্রাঙ্গণে আসতে থাকেন পরিচালকরা। সবাই নির্ধারিত সময়ে এলেও অপেক্ষা ছিল শুধু সভাপতির জন্য।

যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী এবং বিসিবি সভাপতি আসার মিনিট দশেক আগে মিটিং কক্ষ থেকে বের হয়ে গেটের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন বিসিবি পরিচালকরা। এরপর বেলা আড়াইটায় বিসিবিতে প্রবেশ করেন নাজমুল হাসান পাপন। সেই সঙ্গে মন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম কোনো বৈঠক আসেন পাপন। তখন তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বোর্ড কর্তারা। এরপরই শুরু হয় বৈঠক।

কিছুটা স্বস্তি নিয়ে সাড়ে চার ঘণ্টার মিটিং শেষে গণমাধ্যমের সামনে হাজির হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন। বিসিবির সভাপতি হিসেবে এতদিন এমন মিটিং তার কাছে সাধারণ ব্যাপারই ছিল। কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে গতকালের নবম বোর্ড মিটিং পাপনের কাছে একেবারেই নতুন। শুরুতেই সহজ স্বীকারোক্তি বললেন, ‘আগের সব মিটিংয়ে আমি প্রস্তুতি নিয়ে আসতাম। এসে আমি সবকিছু বলতাম, সেটি নিয়ে আলোচনা হতো। আর এবার সবাই বলেছেন আমি কেবল শুনেছি। কারণ পেছনের প্রেক্ষাপট আমার জানা ছিল না।’ তাতে এই মিটিং বিসিবি সভাপতি ও মন্ত্রী পাপনকে ভিন্ন এক অনুভূতি দিয়েছে।

গেল বছরের নভেম্বরে পাপন বলেছিলেন ‘আমি বেশি দিন নাই। যাওয়ার আগে অবশ্যই আমি দলটা ঠিক করে যাব। যা যা করা দরকার এটা আমি করে যাব। সেটা ঠিক হবে কি না, আমি জানি না। সেটা যদি অনেক কঠিন সিদ্ধান্তও হয়, সেটাও আমি নেব।’ নবম বোর্ড মিটিংয়ের আগে তার এই কথাগুলো আরও একবার স্মরণে এসেছে। সবার চোখ ছিল কেবল সিদ্ধান্তের দিকে। তবে সেখানে তামিম ইকবালের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে পাপন বলেছেন, ‘জালাল ভাইসহ আমি যাদের নাম বলে দিয়েছি, সবাই তামিমের সঙ্গে বসবেন। সে ঢাকায় আসার সঙ্গে সঙ্গে সকলে বসবে। তারপরে আমি নিজেও বসব। সুতরাং আমার মনে হয়, এই বিপিএল চলাকালীন সব সিদ্ধান্ত জানা যাবে। এর বেশি বলাটা মুশকিল।’ ফলে পাপনের বলা সেই ‘কঠিন’ সিদ্ধান্তের জন্য এখনো অপেক্ষা করতে হবে।

বিশ্বকাপের ভরাডুবিতে এখনো চোখ বিসিবির

ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। তবে স্মরণকালের বিশ্বকাপের মধ্যে ভারতের মাটিতে যে ভরাডুবি হয়েছে সাকিব আল হাসানদের তার ক্ষত এখনো ভোলেনি বিসিবি, হয়তো ভক্তদের মনেও দাগ কেটে আছে তিক্ততা নিয়ে। সভাপতি বলেন, ‘বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সের ওপরে একটা প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। পুরো রিপোর্টটা আমাকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কিছু সুপারিশও রয়েছে। এটা দেখে বোর্ডের সঙ্গে বসে আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব যে, কোন কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। কী কী করতে হবে, তখনই আমরা ঠিক করব। এটা বেশি দিন লাগবে না। সবকিছু কয়েক দিনের মধ্যে হয়ে যাবে। মাত্রই রিপোর্ট হাতে পেলাম। এখনই এখানে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন। আমাকে পড়তে হবে, বুঝতে হবে, সবার সঙ্গে আলাপ করতে হবে।’

কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ তামিম, আফিফ, এবাদত ও সৈকত

এ বছর বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ২১ জন ক্রিকেটার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৮৫ জনের নাম রাখা হয়েছে। গত বছর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা তামিম ইকবাল, আফিফ হোসেন ধ্রুব, এবাদত হোসেন চৌধুরী ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে এ বছর রাখা হয়নি। তাদের বদলে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন তানজিম সাকিব, তাওহীদ হৃদয়, নাঈম হাসান ও মাহমুদুল হাসান জয়। চুক্তিতে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটের জন্য রাখা হয়েছে পাঁচ জনকে। তারা হলেন—নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন কুমার দাস ও শরীফুল ইসলাম। টি-টোয়েন্টি বাদে টেস্ট ও ওয়ানডের জন্য রাখা হয়েছে মুশফিকুর রহিমকে।

টেস্টের জন্য চুক্তিতে রয়েছেন—মুমিনুল হক সৌরভ, তাইজুল ইসলাম, জাকির হাসান, মাহমুদুল হাসান জয়, সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও নাঈম হাসান। ওয়ানডের জন্য—মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও তানজিম হাসান সাকিব। টি-টোয়েন্টির চুক্তিতে রয়েছেন—নাসুম আহমেদ, শেখ মাহেদী হাসান ও নুরুল হাসান সোহান। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির জন্য রাখা হয়েছে—তাসকিন আহমেদ, তাওহীদ হৃদয়, মুস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদকে। এ দিকে এবার থেকে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এবং পারফরম্যান্স বোনাস বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বোর্ড মিটিংয়ে। 

কোচের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসছে

জানা গেছে, ব্যাটিং কোচ হিসেবে স্টুয়ার্ট ল এবং বোলিং কোচ হিসেবে আন্দ্রে অ্যাডামসের নাম সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা দুই জনের নাম প্রাথমিকভাবে বাছাই করেছি। বোর্ডের পক্ষ থেকে সেটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটি হয়েছে যারা আবেদন করেছেন তাদের মধ্য থেকে আমাদের পছন্দমতো। এখন তাদের সঙ্গে বসে অর্থনৈতিক বিষয়সহ শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা হবে। দু-এক দিনের মধ্যে বসে যদি সবকিছু মিলে যায়, তখন গণমাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নাম জানিয়ে দেওয়া হবে।’

এর বাইরে স্টেডিয়ামের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে নবম বোর্ড মিটিংয়ে। বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, ‘শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের যে কমিটি আছে, তারা সাতটি কোম্পানির নাম সংক্ষিপ্ত তালিকায় রেখেছে। সেটি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়েছি। বোর্ড বলেছে, টেন্ডারের তথ্য এখন এই কোম্পানিগুলোর কাছে দেওয়া হবে। সেটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ