বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

‘বেঁচে থাকতে হুমায়ুন ফরীদির মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি’

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:১০

কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি অভিনয়ের মাধ্যমে আমৃত্যু ছড়িয়েছেন জীবনের বর্ণিল আলো। তিন দশক ধরে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে একচেটিয়া বিরাজ করা দাপুটে এই অভিনেতা ব্যক্তিজীবন কাটিয়েছেন অত্যন্ত সাদামাটাভাবেই। 

তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন। ফরীদিকে হারানোর আজ এক যুগ স্মরণ করা হচ্ছে নানা আয়োজনের মাধ্যমে, অথচ বেঁচে থাকতে তার মেধার সঠিক মূল্যয়ন হয়নি। দুঃখ প্রকাশ করে এমনটিই জানালেন হুমায়ুন ফরীদির বড় বোন পিনু ফরীদি।

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে হুমায়ুন ফরীদি ছিলেন শিশুচিত্তের। পরিবারের সঙ্গে হই চই ও আড্ডা দিতে খুবই পছন্দ করতেন। একটি সংস্কৃতিমনা পরিবারে বেড়ে উঠেছেন তিনি। ছোটবেলায় হুমায়ুন আমার বাবার কবিতা পাঠ শুনে মুগ্ধ হতেন। তখন থেকেই অভিনয় তাকে টানতো।’

অভিনয়কেই তার ভেতরে ধারণ করে গেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘একজন হুমায়ুন ফরীদির মতো শিল্পীর জন্ম বারবার হয় না। একজন প্রকৃত অভিনেতা হিসেবে সে তার পুরো জীবন কাটিয়েছে। অভিনয়কেই যেন তার ভেতরে ধারণ করে গেছে।’

কানকাটা রমজান থেকে নব্বই দশকের একের পর এক ব্যবসা সফল বাণিজ্যিক সিনেমা উপহার দিয়ে গেছেন হুমায়ুন ফরীদি। একজন খলনায়কের চরিত্রও পর্দার মূলআকর্ষণ হিসেবে স্পষ্ট ছাপ রেখে গেছেন তিনি।

১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ুন ফরীদি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মঞ্চ নাটকের মধ্য দিয়ে তার অভিনয় জীবনের শুরু। মঞ্চে প্রথম নির্দেশনা দেন স্কুল জীবনে। সেই নাটকের নাম ছিল ‘ভূত’। 

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘ফণীমনসা’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীর্ত্তনখোলা’, ‘কেরামত মঙ্গল’ প্রভৃতি। টিভি নাটক অথবা মঞ্চে সেলিম আল দীন এবং নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু জুটির বাইরে হুমায়ুন ফরীদির সর্বাধিক সংখ্যক এবং সর্বাধিক সফল কাজ ছিল হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে। টিভি নাটকে প্রথম অভিনয় করেন আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’-এ।

তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘চাঁনমিয়ার নেগেটিভ পজেটিভ’, ‘অযাত্রা’, ‘পাথর সময়’, ‘দুই ভাই’, ‘শীতের পাখি’, ‘সংশপ্তক’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নীল আকাশের সন্ধানে’, ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’, ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’, ‘বকুলপুর কতদূর’, ‘মহুয়ার মন’, ‘সমুদ্রে গাঙচিল’, তিনি একজন’, ‘চন্দ্রগ্রস্ত’, ‘কাছের মানুষ’, ‘মোহনা’, ‘বিষকাঁটা’, ‘শৃঙ্খল’, ‘ভবের হাট’ প্রভৃতি ।

তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় শুরু হয়। প্রথম বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘সন্ত্রাস’। এছাড়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছবি হচ্ছে ‘ভণ্ড’, ‘ব্যাচেলর’, ‘জয়যাত্রা’, ‘শ্যামলছায়া’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘বিশ্বপ্রেমিক’ ও ‘পালাবি কোথায়’।

তিনি ২০০৪ সালে ‘মাতৃত্ব’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন