বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা

অদৃশ্য শক্তির ইশারায় সাগর-রুনি হত্যার বিচার হচ্ছে না

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:৪০

সাগর-রুনিসহ সকল সাংবদিক হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলেন, অদৃশ্য শক্তির ইশারায় সাগর-রুনি হত্যার বিচার হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা এ কথা বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে রুহুল আমিন গাজী বলেন, একটি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের আইনমন্ত্রী বলেছেন ৫০ বছর লাগলেও তদন্ত চলবে। এটা শুধু উপহাস। সরকার সাগর-রুনি হত্যার বিচার করতে চায় না। এটা আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রমাণিত। যদি এই হত্যার বিচার না হয় তবে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন বন্ধ হবে না।

আইনমন্ত্রীর উদ্দেশ্য তিনি বলেন, আপনি কত বছর আইনমন্ত্রী থাকবেন? তবে এই বাংলার মাটিতে সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার হবে।

বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ সেক্টরের নানা অনিয়মের তথ্য উপাত্তসহ সাগর-রুনি অনেক রিপোর্ট করেছিলেন। যখন বিদ্যুৎ সেক্টর দুর্নীতিবাজদের আখড়া হয়ে গেলো তখন তাদের হত্যা করা হলো। তাদের হত্যার পর তাদের ল্যাপটপটা চুরি করা হলো। যে ল্যাপটপে বিদ্যুৎ সেক্ট্রের অনেক তথ্য ছিল।সাগর-রুনিকে হত্যার পর এই সেক্টর দূর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের দখলে চলে গেল। এখন কেউ এই সেক্টরের নিউজ করে না। এক যুগেও খুনি ধরা না পড়ায় চরম হতাশা ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের এনেতা বলেন, এতে বুঝতে কারো অসুবিধে হচ্ছে না এর পেছে ক্ষমধররা রয়েছেন।

অবিলম্বে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এক যুগে খুনের প্রকৃত কারণ বের করা গেল না, সেটি অগ্রহণযোগ্য। র‍্যাব পারছে না এটা আমি বিশ্বাস করতে চাই না। অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা হচ্ছে না।

নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস, বিরোধী দলের নেতা-নেতা-কর্মীদের বিচার হয় বিদ্যুৎগতিতে আর সাগর- রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদনও দেওয়া হয় না ১২ বছরে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। এ সময় তিনি এই সরকারের পতনের মাধ্যমে সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার করা হবে বলে উল্লেখ করেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, সাগর-রুনি হত্যার এক যুগ পরেও আমাদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিচার চাইতে হচ্ছে। রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু গত ১৫ বছরে ৬০ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছে। কোনো হত্যার বিচার হয়নি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর সুষ্ঠু বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু দেড় দশক হয়ে গেছে বিচার পাওয়া যায় নি। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু করেছিল। কিন্তু এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় একটি অংশ এই আন্দোলন থেকে ছিটকে পড়ে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, আজ পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজ সাগর-রুনি হত্যার মোটিভটি পর্যন্ত জানতে পারেনি। এই হত্যাকাণ্ডের পর আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। কিন্তু সরকারের চক্রান্তে একটা অংশ এই বিচারের দাবিতে সোচ্চার না। ফলে এরা অনেকে লাভবানও হয়েছেন। 

বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খানের সঞ্চলনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজের সিনিয়র সহকারী মহাসচিব বাছির  জামাল, ডিইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু, ডিইউজের দফতর সম্পাদক ইকবাল মজুমদার তৌহিদ, বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য হামিদুল হক মানিক, ডিআরইউ’র সাবেক সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান, আবু হানিফ, মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাখওয়াত ইবনে মঈন চৌধুরী প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এবি