সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

হঠাৎ জ্ঞান ফিরলে গৃহবধূর চোখে-মুখে আঠা লাগায় চোর: পুলিশ

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৯:২৩

খুলনায় চোখ-মুখে সুপার গ্লু লাগিয়ে মধ্যবয়সী সেই গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনাটিকে ‘চুরি’ বলে দাবি করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। 

এ ঘটনায় খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর গ্রামের ইমামুল জোয়াদ্দার ওরফে এনামুল, তার মা রাশিদা বেগম, ক্রেতা স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমন হালদার ও সহযোগী আব্দুস সামাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় এনামুলের কোমর থেকে এক রাউন্ড গুলিসহ একটি অন সুটার গান, ১০০ পিস ইয়াবা, চেতনানাশক ট্যাবলেট ও সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার বলেন, ইমামুল জোয়াদ্দার ওরফে এনামুল জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, তিনি রাতের বেলায় দু-তিনদিন রাড়ুলী গ্রামের ষষ্ঠিতলা বাজার সংলগ্ন মাঠের পাশে ভিকটিম জাহানারা বেগমের বাড়ির দক্ষিণ পাশে মেহগুণি বাগানে নেশা করতে গিয়েছিল। গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি ওই বাড়ির কাছে গিয়ে দেখেন, ওই নারী একা জাল বুনছেন। 

এনামুল পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাগরিবের নামাজের পর ঘরের ছাদের উপরে উঠে সিঁড়িঘর দিয়ে নিচে নামে। এরপর ভাতের ভেতর চেতনানাশক ট্যাবলেট মিশিয়ে আসে। রাত ২টার দিকে ছাদ দিয়ে তার ঘরে প্রবেশ করে এনামুল। এসময় হঠাৎ করে ওই নারীর জ্ঞান ফিরে এলে মুখ চেপে ধরে চোখে-মুখে সুপার গ্লু লাগিয়ে দেন তিনি। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলে এনামুল শাবল দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করে। এতে প্রচুর রক্তক্ষণ হওয়ার পর গৃহবধূ অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর এনামুল তার হাত-মুখ বেঁধে শরীরের কাপড় খুলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরে গৃহবধূর জ্ঞান ফিরলে কৌশলে হাত খুলে ফেলেন। তখন এনামুল রাগান্বিত হয়ে তার বুকে কামড় দেয়। এরপর এনামুল ওড়নার একপাশ দিয়ে পেছন থেকে হাত ও অন্যপাশ দিয়ে তার পা বাঁধে। পরে এনামুল তার দুই কান থেকে দুটি কানের দুল ছিড়ে নেয়। এতে প্রচুর রক্ত বের হয়। এ সময় ওই নারীর গোঙানিতে পাশের বাড়ির একজন চোর চোর বলে ঘরের বেড়ার টিনে বাড়ি দিলে এনামুল দ্রুত বাড়ির ছাদে উঠে মেহেগুণি গাছ বেয়ে পালিয়ে যায়। 

পরের দিন এনামুল পাশের ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারে গিয়ে ৪ হাজার টাকায় কানের দুল বিক্রি করে। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৪টায় গদাইপুর গ্রামের কেসমত সরদারের বাড়ি প্রবেশ করে একটি সিম্ফনি মোবাইল ফোন ও একটি কানের দুল চুরি করে এনামুল। চুরি করা মোবাইল ফোনটি সে তার মাকে দেয় ও কানের দুলটি চুকনগর বাজারের মা জুয়েলার্সে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। ওই দোকানের মালিক সুমন হাওলাদারকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামের একটি বাড়িতে চুরি করতে এসে চোখ-মুখে সুপার গ্লু দিয়ে এক গৃহবধূকে (৪৫) ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে চোরের বিরুদ্ধে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই গৃহবধূকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এখনও তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।    

ইত্তেফাক/ডিডি