হাতে গোলাবারুদ নেই এমতাবস্থায় সামরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিক সফরে জার্মানিতে গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এরপর তিনি ফ্রান্স সফরে যাবেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার বার্লিনে পৌঁছান তিনি। প্রেসিডেন্টের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর আভদিভকা দখল করে নিতে পারে রাশিয়া এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি কয়েক মাসে শহরটিকে ঘিরে তুমুল লড়াই হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের টেলিগ্রাম চ্যানেল বার্লিনের একটি বিমানবন্দরের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। ঐ ছবিতে বার্লিনে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত এবং জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে জেলেনস্কিকে দেখা গেছে। আশা করা হচ্ছে জার্মানি এবং ফ্রান্স ইউক্রেনের সঙ্গে নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিতে দ্বিপাক্ষিক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করবে। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলেসর সঙ্গে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া এই চুক্তির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
এই সফরের খবরটি এমন সময় এলো যখন পূর্বাঞ্চলীয় আভদিভকা শহরে রুশ বাহিনীকে আটকাতে ইউক্রেনীয় সেনারা প্রাণপণ চেষ্টা করছে। পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ আরো তীব্র হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে জার্মানিতে যান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বার্লিনে পৌঁছে জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলেসর সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তিনি। তিনি মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সেও যোগ দেবেন। সেখানে ৪০টি দেশের রাষ্ট্র বা সরকারের প্রধানরা যোগ দেবেন। প্রচুর সামরিক বিশেষজ্ঞও থাকবেন সেখানে।
জেলেনস্কির কাছে এই সময়টা রীতিমতো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তার হাতে গোলাগুলির সংখ্যা কমে গেছে। পশ্চিমা দেশগুলো উত্পাদন বাড়িয়েছে, কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি তা ইউক্রেনের হাতে পৌঁছবে না। আর এর মধ্যে রাশিয়া আক্রমণ আরো তীব্র করতে পারে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে এখন হিসাব করে গোলাগুলি খরচ করতে হবে। এই বিষয়টি নিয়ে মিউনিখে আলোচনা হবে। সেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও যোগ দেবেন।
এদিকে ইউক্রেনের গোলাবারুদের সংকটের কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কারবি বলেন, আভদিভকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। জানা যায়, রাশিয়ার সেনারা আভদিভকার লড়াইয়ে অগ্রগতি অর্জন করেছে। শহরটি ঘিরে ফেলার হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। আভদিভকা শহরটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এ শহরকে দোনেেস্কর প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখা হয়। ২০১৪ সালে রাশিযা-সমর্থিত যোদ্ধারা দোনেত্স্ক দখল করেছিল। পরে সেটিকে মস্কোর সাথে সংযুক্ত করা হয়।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরু করে। প্রথমে ইউক্রেন শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে। ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে কারবি বলেন, আভদিভকার বড় ধরনের পতন ঘটতে পারে। কারণ, মাঠে থাকা ইউক্রেনীয় বাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “রাশিয়া একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, যেহেতু কংগ্রেসে এখনো সহায়তা বিল পাশ হয়নি, তাই আমরা ইউক্রেনকে গোলাবারুদ সরবরাহ করতে পারছি না। যদিও রুশ আক্রমণ প্রতিরোধে এগুলোর জন্য মরিয়া হয়ে আছে ইউক্রেনের সেনারা।”
কারবি জানান, “রুশ বাহিনী এখন আভদিভকাতে ইউক্রেনীয় পরিখাগুলোতে পৌঁছে গেছে। তারা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ভাঙতে শুরু করেছে। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের সাহায্য প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। যার মধ্যে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৬ হাজার কোটি ডলার। বিলটি এখনো মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হওয়া বাকি।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা মিত্রদেশগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র সরবরাহের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ন্যাটো মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গ বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেন যে, ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা ইতিমধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।”
