বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

মূল্যছাড়ে কারসাজি, উৎসব মুখর বেচাকেনা 

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৩০

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সাপ্তাহিক শেষ ছুটির দিন গতকাল শনিবার মানুষের ঢল নামে। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ে মেলায় তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের পদচারণায় মেলা প্রাঙ্গণ জমজমাট হয়ে ওঠে। উৎসবমুখর পরিবেশে কেনাবেচা হয়েছে প্রচুর। তাতে আয়োজক ও বিক্রেতারা খুশি। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার পর্দা নামবে। শেষ মুহূর্তে মূল্যছাড়ে কেনাবেচার ধুম পড়েছে। মেলার শুরুর দিকে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী ছিল বেশি। এখন দর্শনার্থীর চেয়ে ক্রেতার সংখ্যা বেশি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্টল ও প্যাভিলিয়নে ঝুলছে মূল্যছাড়, ডিসকাউন্ট, একটি কিনলে একটি ফ্রি, একটি কিনলে দুইটি ফ্রি, একটি কিনলে ১০টি ফ্রিসহ নানা লোভনীয় অফারের বোর্ড। কোন কোন স্টল ও প্যাভিলিয়নে পণ্যের গায়ে বেশি দাম লিখে ডিসকাউন্টের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এতদিন যে ব্লেজারের দাম ছিল ২ হাজার টাকা—তাতে ডিসকাউন্ট ছিল ১৫ শতাংশ। এখন সেই ব্লেজারের দাম লেখা হয়েছে ৩ হাজার টাকা আর ডিসকাউন্ট ধরা হয়েছে ৫০ শতাংশ। ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়াতে কোন কোন স্টলে এই অনুপাতে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতারাও এ লোভনীয় অফার পেয়ে দেদার কিনছেন। বাণিজ্য মেলায় বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রি, বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রক্রিয়া করা ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ও মেয়াদ মোড়কে মূল্যবিহীন পণ্য বিক্রি করার অপরাধ অব্যাহত রয়েছে। আবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও চলমান রেখেছে।

লোভনীয় অফার দিয়ে মেলায় পণ্য বিক্রির জাল পাতে কতিপয় প্রতারক চক্র। বিক্রি বাড়াতে অফারের নামে তারা ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করে। আর অসচেতন ক্রেতারাও না বুঝে তাদের পণ্য কিনতে ঝুঁকে পড়ে। অনেকেই এসব পণ্য কিনে প্রতারিত হয়েছেন। নিম্নমানের পণ্যে বিদেশি ও ব্র্যান্ডের পণ্যের স্টিকার লাগিয়ে বিক্রি করা হয়। কোন কোন স্টলের কিছু কিছু পণ্যের মোড়কে মূল্য ছিল না। যারা ভোক্তা অধিকার আইন অমান্য করে অনৈতিকভাবে ব্যবসা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোন ভোক্তা সরাসরি মেলায় লিখিত অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক তা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

স্মৃতি ইমিটেশন জুয়েলারির বিক্রয় প্রতিনিধি আলেয়া আক্তার বলেন, ‘স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নারীরা মেলায় এলেই ইমিটেশনের গহনার দোকান পরিদর্শন শেষে পণ্য কিনেছেন। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ইমিটেশনের গহনার দোকানে ভিড় লেগেই থাকে। ইমিটেশনের গহনার চাহিদা বেশি। বিক্রিও হয়েছে প্রচুর। হ্যাপি-ডে স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধি আলী আকবর বলেন, নানা প্রতিকূলতায় তুলনামূলকভাবে এবার পণ্য বিক্রি হয়েছে কম। মেলায় নিয়ে আসা পণ্য ফেরত নিলে পরিবহন খরচ বাড়ে। সে কারণে কম লাভে বিভিন্ন অফারে কিংবা কেনা দামেও বিক্রি করা হচ্ছে।

গতকাল তরুণীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে প্রসাধনী ও ইমিটেশনের গহনার দোকান। কাপড়, কসমেটিকস, ক্রোকারিজ, সৌন্দর্যবর্ধক সামগ্রী, রুটি মেকার,  ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী, গৃহস্থালি পণ্য, প্লাস্টিক সামগ্রী, সিরামিক, প্রেশার কুকার, ফ্রাইপ্যান, ভেজিটেবল কাটার, চামড়াজাত পণ্য, খাদ্যপণ্য, মেলামাইন, খেলনা, পাট ও আসবাবপত্র এবং আইসক্রিমের স্টলে ক্রেতাদের ভিড়ে বেসামাল ছিলেন দোকানি। 

আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলহাজ মো. ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, টিকিট বিক্রিতে লক্ষ্য পূরণ হয়নি। লোকসান হবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিত ছিল কম। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব বিবেক সরকার বলেন, এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা লক্ষাধিক থাকলেও গড়ে প্রতিদিন ৪৫/৫০ হাজার মানুষ প্রবেশ করেছে।

ইত্তেফাক/এমএএম