মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের!

লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধে আদালতের আদেশ প্রার্থনা

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩০

নিবন্ধনহীন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধে আদালতের আদেশ চায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল রবিবার লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা এফিডেভিট আকারে দাখিলের পর হাইকোর্ট বলে, এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তখন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বলেন, এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নেই। কোর্টের আদেশ হলে ভালো হয়। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লার দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই তথ্য জানানো হয়।

সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে বাড্ডার সাঁতারকুলে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় করা রিট মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই প্রতিবেদন আদালতে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে নিবন্ধনহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ২৭টি। আর নিবন্ধন রয়েছে এমন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা ১ হাজার ৫৩৩টি। এই তথ্য উপস্থাপনের পর নিবন্ধনহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চায় হাইকোর্ট। তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় আদালতের আদেশ প্রয়োজন বলে জানান।

এদিকে শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় ইন্টারভেনর হিসেবে আইনজীবী মো. শিশির মনিরের আবেদন গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট। এই আইনজীবী চিকিৎসা সংক্রান্ত অবহেলার ৭০টি ঘটনা আদালতে তুলে ধরেন। এসব অবহেলার ঘটনায় চিকিৎসকরাও হামলার শিকার ও হাসপাতালে ভাঙচুর হয়েছে। এ ধরনের ৩০টি ঘটনা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়ে প্রতিকার পাওয়ার জন্য ২০১৩ সালে আইন কমিশন একটা খসড়া প্রণয়ন করে। কিন্তু গত ১০ বছরেও ঐ খসড়া বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইন কমিশনের ঐ খসড়া বাস্তবায়নে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শিশির মনির। রিটকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ বি এম শাহজাহান আকন্দ মাসুম। ইউনাইটেড হাসপাতালের পক্ষে আইনজীবী কুমার দেবুল দে শুনানি করেন। 

তিনি বলেন, রুল জারি হলেও আমরা এখনো কোনো কপি পাইনি। আমাদের পক্ষভুক্ত করা হয়নি। এরপরই আদালত পক্ষভুক্তির নির্দেশ দিয়ে মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করে।

ইত্তেফাক/এমএএম