সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বাংলাদেশের নাগরিক হতে রোহিঙ্গাদের জালিয়াতি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৮

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীরা প্রতারক চক্রের সহায়তায় জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে যাচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দেশের বাইরেও যাচ্ছেন।

এই জালিয়াতির কাজে সহায়তা করছে নির্বাচন কমিশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের এক শ্রেণির কর্মচারী-কর্মকর্তা। জালিয়াতির ঘটনা নতুন না হলেও সর্বশেষ আরেকটি চক্রকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিট (দক্ষিণ)। তারা যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে তাদের মধ্যে দুইজন হলেন দিনাজপুরের বিরল পৌরসভার কম্পিউটার অপারেটর মো. আব্দুর রশিদ এবং বিরল উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের কম্পিউটার অপারেটর সোহেল চন্দ্র। তাদের সহায়তা নিয়ে এই জালিয়াতির কাজ করতো এরকম আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম মুন্না, মো. রাসেল খান ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের (দক্ষিণ) অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. সাইফুর রহমান আজাদ জানান, ‘তারা শুধু জন্ম নিবন্ধনের জন্য কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা করে নিত। এরপর ন্যাশনাল আইডি কার্ড, পাসপোর্ট এসবের জন্য আলাদা টাকা নিত। আমরা জন্ম নিবন্ধন দৈবচয়নের ভিত্তিতে পরীক্ষা করে দেখেছি। তারা রোহিঙ্গাদের যেগুলো দিয়েছে তা সার্ভারে আছে। শুধু নাম, ঠিকানা পরিবর্তন করে দেওয়া। আর এনআইডি আমরা পরীক্ষা করে দেখছি।’

গোয়েন্দা বিভাগের এই দলটি রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টসহ আরো ২৬ জনকে পল্টন এলাকা থেকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করেছে। তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত দুই-এক দিনের মধ্যে জানানো হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

আটক পাঁচজন জানিয়েছেন, তারা রোহিঙ্গাদের দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে জন্ম নিবন্ধন করিয়ে দেন। জন্ম নিবন্ধনের পর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট পেতেও তারা সহায়তা করেন। জন্ম নিবন্ধন হয়ে গেলে ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও পাসপোর্টের কাজ সহজ হয়ে যায়।

আটকদের মধ্যে দুইজন জানিয়েছেন, তার কক্সবাজার এলাকায় এক হাজার ১৫০ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসাবে জন্ম নিবন্ধন করিয়ে দিয়েছেন।

এই জালিয়াতির কাজে সহায়তা করছে নির্বাচন কমিশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের এক শ্রেণির কর্মচারী-কর্মকর্তা। জালিয়াতির ঘটনা নতুন না হলেও সর্বশেষ আরেকটি চক্রকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিট (দক্ষিণ)। তারা যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে তাদের মধ্যে দুইজন হলেন দিনাজপুরের বিরল পৌরসভার কম্পিউটার অপারেটর মো. আব্দুর রশিদ এবং বিরল উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের কম্পিউটার অপারেটর সোহেল চন্দ্র। তাদের সহায়তা নিয়ে এই জালিয়াতির কাজ করতো এরকম আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম মুন্না, মো. রাসেল খান ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের (দক্ষিণ) অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. সাইফুর রহমান আজাদ জানান, ‘তারা শুধু জন্ম নিবন্ধনের জন্য কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা করে নিত। এরপর ন্যাশনাল আইডি কার্ড, পাসপোর্ট এসবের জন্য আলাদা টাকা নিত। আমরা জন্ম নিবন্ধন দৈবচয়নের ভিত্তিতে পরীক্ষা করে দেখেছি। তারা রোহিঙ্গাদের যেগুলো দিয়েছে তা সার্ভারে আছে। শুধু নাম, ঠিকানা পরিবর্তন করে দেওয়া। আর এনআইডি আমরা পরীক্ষা করে দেখছি।’

গোয়েন্দা বিভাগের এই দলটি রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টসহ আরো ২৬ জনকে পল্টন এলাকা থেকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করেছে। তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত দুই-এক দিনের মধ্যে জানানো হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

আটক পাঁচজন জানিয়েছেন, তারা রোহিঙ্গাদের দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে জন্ম নিবন্ধন করিয়ে দেন। জন্ম নিবন্ধনের পর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট পেতেও তারা সহায়তা করেন। জন্ম নিবন্ধন হয়ে গেলে ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও পাসপোর্টের কাজ সহজ হয়ে যায়।

আটকদের মধ্যে দুইজন জানিয়েছেন, তার কক্সবাজার এলাকায় এক হাজার ১৫০ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসাবে জন্ম নিবন্ধন করিয়ে দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জন্ম নিবন্ধন সার্ভারের পাসওয়ার্ড থাকে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভার মেয়র, ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের কাছে। আর ন্যাশনাল আইডি কার্ডের পাসওয়ার্ড থাকে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে। এই দুই জায়গার সার্ভারে প্রতারকরা যে-কোনো উপায়ে ঢুকে রোহিঙ্গাদের জন্ম নিবন্ধন ও ন্যাশনাল আইডি কার্ড দেয়। আর এই দুইটি ডকুমেন্ট থাকলে পাসপোর্ট পাওয়া সহজ হয়। তারপরও পাসপোর্ট করতে গিয়ে সন্দেহজনক আচরণের কারণে অনেক রোহিঙ্গা ধরা পড়ে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ইয়াসির নামে এক রোহিঙ্গা যুবক আটক হয়েছেন। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পশ্চিম ঘোড়াশাল ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের জাকির হোসেন ও হাসিনা বেগমের ছেলে পরিচয়ে জন্ম-নিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে পাসপোর্টের আবেদন করেন। ফিঙ্গার প্রিন্ট ও ছবি তুলতে গিয়ে সন্দেহজনক আচরণের কারণে তিনি ধরা পড়েন। ওই যুবক মিয়ানমারের বালি বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি কক্সবাজারের বালুখালি ক্যাম্পে থাকেন। ওই ঘটনায় রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করিয়ে দেয়া চক্রের তিন জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৪টি পার্সপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

সম্প্রতি কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ কুড়িগ্রাম ও গাজীপুরেও মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট করতে গিয়ে আটক হয়েছেন। জানা গেছে জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট এই পুরো কাজ করতে পাঁচ থেকে আট লাখ টাকায় চুক্তি করেন প্রতারকেরা। আবার এটা তারা ধাপে ধাপেও চুক্তি করেন। আর মিথ্যা তথ্য দিয়ে এগুলো করা হলেও রোহিঙ্গারা অরিজিনাল ডকুমেন্টই পায়। তাদের সবকিছুই সার্ভারে থাকে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামের কাট্টলি এলাকা থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ তিন রোহিঙ্গা যুবককে আটক করে পুলিশ। তারা নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট করিয়েছিলেন।

ওই একই বছর (২০১৯ সালে) চট্টগ্রামে জালিয়াতি করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার বড় ঘটনা ধরা পড়ে। ওই ঘটনায় তখন নির্বাচন কমিশনের সাতজন কর্মচারীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আরো কয়েকজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এনআইডি সার্ভারে ঢুকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার কথা স্বীকার করেন। ওই ঘটনায় তখন তিনটি তদন্ত কমিটি হয়েছিল।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনু বিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম জানান গাজীপুরেও সম্প্রতি এইধরনের আরেকটি জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। সেটার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো. রফিক নামে এক রোহিঙ্গা গাজীপুর জেলা নির্বাচন অফিস থেকে ভুয়া পরিচয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েছেন।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনু বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ও নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানান, ‘ডিবির হাতে পাঁচজন আটক হওয়ার পর আমরা সারাদেশে সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছি। আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যে জেলা উপজেলার সব পাসওয়ার্ড পরিবর্তন হয়ে যাবে। আগে খুব সাধারণ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হতো, যা হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। এখন আমরা শক্ত পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে বলেছি। আলফা নিউমেরিক পাসওয়ার্ড দিতে বলেছি। আগে ১, ২, ৩ এভাবে সিরিয়ালি পাসওয়ার্ড দিতো।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালে চট্টগ্রামে রোহিঙ্গাদের ন্যাশনাল আইডি কার্ড দেয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। কয়েকজনের চাকরি চলে গেছে। কয়েকজন সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।’

(ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি করছেন হারুন উর রশীদ স্বপন)

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন