বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

‘আইএস বধূ’ শামীমার আবেদন খারিজ

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:২০

আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের সদস্যকে বিয়ে করতে ১৫ বছর বয়সে দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব হারানো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমা বেগমের আপিল খারিজ করেছেন আদালত। নিজের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে গত বছরের অক্টোবরে লন্ডনের আপিল আদালতে ওই মামলা করেছিলেন তিনি। খবর এএফপির।

আজ শুক্রবার যুক্তরাজ্যের আপিল আদালত বলেছেন, আইনসিদ্ধভাবেই শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। শামীমার আইনজীবীরা পাঁচটি যুক্তি তুলে ধরেছিলেন৷ সবগুলোই খারিজ করে দেওয়া হয়েছে৷

রায় দেওয়ার সময় বিচারক সু কা বলেন, শামীমা বেগমের বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে এবং নিজের দুর্ভাগ্যের জন্য তিনিই দায়ী– এসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু এই আদালতের কাজ উভয় দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত হওয়া বা না হওয়া নয়, আমাদের একমাত্র কাজ হলো বঞ্চনার সিদ্ধান্তটি বেআইনি ছিল কিনা, তা মূল্যায়ন করা৷ আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, এটি (বেআইনি) ছিল না এবং আপিল খারিজ করা হয়েছে।

আদালতের এই আদেশের অর্থ শামীমাকে সিরিয়ায় থাকতে হবে এবং তার যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

শামীমার পরিবার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। ২০১৫ সালে তিনি তার স্কুলের দুই বন্ধুর সঙ্গে সিরিয়ায় যেতে পূর্ব লন্ডনের বাসা ছাড়েন। পরে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসের এক যোদ্ধাকে বিয়ে করেন শামীমা। সেখানে তার তিনটি সন্তান হয়। তবে সন্তানেরা কেউ বেঁচে নেই।

২০১৯ সালে সিরিয়ার এক শরণার্থী শিবিরে শামীমা বেগমের ছবি প্রকাশ হওয়ার পর তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করেছিল কর্তৃপক্ষ৷ এর বিরুদ্ধে গত অক্টোবরে আপিল করেছিলেন শামীমা৷ তার দাবি, ওই সময়কার ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেন। এতে তিনি (শামীমা) রাষ্ট্রহীন অবস্থায় পড়েছেন।

পরের বছর ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যের একটি ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে বলেন, শামীমা রাষ্ট্রহীন অবস্থায় নেই। কেননা, তিনি ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নাগরিক’। তাঁর মা একজন বাংলাদেশি।

গত বছর শামীমা যুক্তরাজ্যের স্পেশাল ইমিগ্রেশন আপিল কমিশনে (এসআইএসি) ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হেরে যান। কমিশন বলেছে, শামীমাকে জঙ্গি সংগঠনটিতে নিয়োগ দিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে নিয়ে যাওয়া ও পরে যৌন নির্যাতনের জন্য সিরিয়ায় রেখে দেওয়ার বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য সন্দেহ রয়েছে। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাভিদ তাঁর নাগরিকত্ব কেড়ে না নিয়ে পারেননি।

এ আদেশের ফলে শামীমা বেগম সিরিয়ায় শরণার্থীশিবির থেকে যুক্তরাজ্যে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেননি। 

আইএসে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য থেকে প্রায় ৯০০ ব্যক্তি বিভিন্ন সময় সিরিয়া ও ইরাকে গেছেন। ব্রিটেনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে প্রায় দেড় শ ব্যক্তির নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

ইত্তেফাক/এনএন