বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই ফিলিস্তিনিদের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়ে গাজায় শিশু ও নারীর মৃত্যু ৬ গুণ

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:০৮

৭ অক্টোবরের পর থেকে গত সাড়ে চার মাসে ইসরায়েলের একটানা আক্রমণে গাজায় নারী ও শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা দুই বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নারী ও শিশুদের মৃত্যুর ছয় গুণ ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিসংখ্যান গাজা অঞ্চলে ইসরায়েলের মারাত্মক বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে তুর্কি সংবাদসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

আনাদোলু ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ান-ইউক্রেনীয় যুদ্ধে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা এবং ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে নারী ও শিশুদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলনা করেছে।

ইসরায়েল প্রায় ২৩ লাখ ফিলিস্তিনির আবাসস্থলে আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে বোমাবর্ষণ করছে। ফিলিস্তিনি সূত্রমতে, ইসরায়েল গজা হামলায় ৬৬ হাজার টনেরও বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে। যা প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে প্রায় ১৮৩ টন। এই আগ্রাসনে ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি গৃহহীন হয়েছে।

ইসরায়েলের হামলায় ২৯ হাজার ৪১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ১২ হাজার ৬৬০ শিশু এবং ৮ হাজার ৫৭০ নারী রয়েছেন। এসব হামলায় আরও ৬৯ হাজার ৪৬৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি নারী ও শিশু।

ধ্বংসস্তুপের নিচে এখনও কয়েক হাজার লোকের মৃতদেহ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। 

জাতিসংঘ ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে যে ইসরায়েলের তীব্র আক্রমণে গাজা উপত্যকায় ২২ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সংগ্রাম করছে। এই অঞ্চলে সাহায্য আনার ক্ষেত্রে তেল আবিবের বাধার কারণেও ক্ষুধার সম্মুখীন হচ্ছে। উত্তর গাজার ফিলিস্তিনিরা পশুখাদ্য পিষে ময়দা তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছে।

অন্যদিকে ইউএন হিউম্যান রাইটস মনিটরিং মিশন (এইচআরএমএমইউ) অনুসারে, রাশিয়ার আগাসনে ইউক্রেনে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫৭৯ শিশু এবং ২ হাজার ৯৯২ জন নারীসহ মোট ১০ হাজার ৩৭৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩২ জন। 

এর মধ্যে মোট ৮ হাজার ৯৫টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে এবং ২ হাজার ২৮৩টি রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলে। এইচআরএমএমইউ ধারণা করছে, মৃতের সংখ্যা আরও কিছু বেশি হতে পারে।

এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গাজায় সাড়ে চার মাসে ইসরায়েলের হাতে নিহত নারী ও শিশুর সংখ্যা দুই বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত নারী ও শিশুর সংখ্যার প্রায় ছয় গুণ ছাড়িয়ে গেছে।

কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই ফিলিস্তিনিদের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, হামলার কারণে লক্ষাধিক ইউক্রেনীয় নাগরিক, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের স্বাগতও জানিয়েছে।

কিন্তু গাজার ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি ২০০৭ সাল থেকে ইসরায়েলি স্থল, আকাশ ও সমুদ্র অবরোধের অধীনে মাত্র ৩৬০ বর্গ কিলোমিটার (১৩৯ বর্গ মাইল) এলাকায় আটকা পড়ে আছে। হামলার কারণে গাজায় ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়ার কোনো নিরাপদ জায়গাও নেই।

উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ গাজার আক্রমণের কারণে প্রায় ১৫ লাখ ফিলিস্তিনি রাফাহ শহরের ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানেও আক্রমণ শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। 

ইত্তেফাক/এনএন